ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি জনগণের আস্থা ও ভোটে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত হন, তাহলে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে।

এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত বুধবার রা‌তে দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজারে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের সাধারণ মানুষ কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অভাব ও আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারই অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় দরিদ্র, শ্রমজীবী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা কিংবা খাদ্য সহায়তা পাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনায় ইতোমধ্যে উঠে এসেছে— প্রতিটি পরিবারের জন্য মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ অথবা সমপরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

যদিও বিষয়টি চূড়ান্ত নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে, তবে বিএনপির লক্ষ্য থাকবে যেন প্রকৃত উপকারভোগীরাই এই সহায়তা পান।

বক্তব্যে তিনি বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু বড় বড় স্থাপনা নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচিত হলে ছাতক-দোয়ারাবাজার এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কৃষি সেচ প্রকল্প এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে হাওর এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

কলিম উদ্দিন মিলন আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া অর্থনৈতিক পুনর্গঠন সম্ভব নয়। যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে সহজ শর্তে ঋণ, বাজার সংযোগ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে বেকারত্ব অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা শফিকুল আলম সালেক। সভাটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল আলম এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য জহিরুল ইসলাম সানি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাস্টার সবির আহমদ।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক নমু, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এমএ বারী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলতাফুর রহমান খসরুসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন বক্তা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বোগলাবাজার ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।