ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি পেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি পেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার কলিবফ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি পেতে হবে, তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে এবং স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে যে, ইরানি জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই।

ইরানের এই শীর্ষ আইনপ্রণেতা বলেন, তেহরানের কৌশল অন্তহীন যুদ্ধ কিংবা অনির্দিষ্টকালের জন্য আলোচনায় আটকে থাকা নয়। বরং সামরিক শক্তি ও কূটনীতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে ইরানের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করাই এ কৌশলের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানকে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে হবে, সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত বিজয়কে রাজনৈতিক সাফল্যে রূপান্তর করতে হবে।

কলিবফের ভাষায়, “এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা লড়াইও করব, আলোচনাও চালিয়ে যাব। প্রয়োজন হলে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করতে হবে, প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিটি সামরিক বিজয়কে রাজনৈতিক বিজয়ে রূপান্তর করে তা সুসংহত করতে হবে। একই সঙ্গে শত্রুর পরাজয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে এবং মহান আল্লাহর সামনে আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, জবরদস্তিমূলক নীতি অনুসরণকারী শত্রুর বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনাও চালিয়ে যেতে হবে।

‘নতুন সমীকরণ’

কলিবফ বলেন, ইরান যুদ্ধ, আলোচনা ও শান্তির প্রচলিত ধারার পরিবর্তে যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধক্ষমতার সমন্বয়ে একটি নতুন সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত কোনো চুক্তিতে মার্কিন প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত থাকলেই ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আবারও হামলা বন্ধ থাকবে কি না—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে না।

কলিবফের মতে, ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতার শিকড় গভীরে প্রোথিত। ওয়াশিংটনের আধিপত্যবাদী ও চাপ সৃষ্টিকারী নীতিই এই বৈরিতাকে উসকে দেয় এবং দেশটির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরিচালিত করে।তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে, শহীদ নেতা [ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেযী যেমনটি বলেছিলেন, ‘তারা ইরানকে গ্রাস করতে এসেছে।’

কলিবফ স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে আস্থার অভাব থেকেই গত জুনে দুই ধাপে সমঝোতা স্মারক প্রণয়ন করেছিল ইরান। তাঁর দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের ফলেই যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু কূটনৈতিক চুক্তির ওপর নির্ভর করতে চায় না; বরং সামরিক প্রস্তুতি, প্রতিরোধক্ষমতা ও কূটনৈতিক তৎপরতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে চায়।