তাইওয়ানে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি। এতে অন্তত একজন নিহত ও ৩৫০ জন আহত হয়েছেন। ঝড়ের কারণে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং হাজারো বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টােবর) দ্বীপটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতিক্রম করে টাইফুনটি। পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসবিদ লিন পিং-ইউ মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সর্বত্র প্রবল বাতাস ও ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

একপর্যায়ে টাইফুন চাম্পি সুপার টাইফুনে রূপ নিয়েছিল। তখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। পরে ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।

তবে আজ শনিবার (২৪ অক্টােবর) আরও ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাইওয়ানের আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে কোথাও কোথাও ৯০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দ্বীপটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল। শুক্রবার ইয়িলান কাউন্টিতে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ লু কুও-চেন জানান, টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের কাছে ধীরগতিতে চলতে পারে। এতে ঝড়ের প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চাম্পি এখন চীন ও জাপানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে অঞ্চলজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানিয়েছে ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনটি ওকিনাওয়া ও চীনের পূর্ব উপকূলের কাছে অবস্থান করার পর উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে জাপানের মূল ভূখণ্ডের দিকে এগোতে পারে।

এদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাবে এবারের ঝড়ের মৌসুম আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বুধবার বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, বর্তমান এল নিনো গত চার দশকের পর্যবেক্ষণ-সীমাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো শক্তিশালী হতে পারে।

প্রাকৃতিক এই আবহাওয়াজনিত প্রক্রিয়ায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাব ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং ২০২৭ সাল ও তার পরেও এর প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।