ভোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ পরানগঞ্জ বাজারে যানজটে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট, দুই থেকে তিন সারিতে অটোরিকশা পার্কিং এবং পার্শ্বসড়কের প্রবেশমুখ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল।
বিশেষ করে লঞ্চের যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যস্ত সময়ে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এতে কখনো ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট, আবার কখনো এক ঘণ্টা পর্যন্ত সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ পরিস্থিতিতে যানজট নিরসনে শিগগিরই পরানগঞ্জ বাজারে ট্রাফিক সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।
জানা গেছে, পরানগঞ্জ বাজার ভোলার যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। বাজারের সামনের সড়কটি একদিকে ভেদুরিয়া ফেরিঘাটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে গেছে ইলিশা ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটের দিকে। ভেদুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়কপথে ভোলায় প্রবেশ করেন মানুষ।
অন্যদিকে ইলিশা নৌপথে ঢাকা, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন জেলার বাসিন্দারা। এ ছাড়া ফেরি যোগাযোগের মাধ্যমে ভোলার সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাটের সংযোগ রয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা জেলার সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার জন্য জরুরি।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ প্রবেশপথে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও পথচারীরা। বিশেষ করে লঞ্চের আগমন ও প্রস্থানের সময় যাত্রীদের চাপ বাড়লে যানজট তীব্র হয়। নির্ধারিত সময়ে লঞ্চঘাটে পৌঁছানোর তাড়া থাকলেও সড়কে আটকে থেকে মূল্যবান সময় হারাচ্ছেন অনেকে। কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদেরও পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইয়ামিন বলেন, সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট বসানোর পাশাপাশি অটোরিকশা দুই থেকে তিন সারিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে মূল সড়কের চলাচলযোগ্য অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
পথচারী রত্না আক্তার বলেন, পার্শ্বসড়কের প্রবেশমুখে অটোরিকশা পার্কিং ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসানোর কারণে এসব পথে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিকল্প পথে চলাচলের সুযোগ কমে যায় এবং যানজট আরও দীর্ঘ হয়।
ভোলার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক ও নৌ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল পরানগঞ্জ বাজারে যানজট নিরসন এখন সময়ের দাবি। প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সড়কে আটকে থাকার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এ পরিস্থিতিতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ট্রাফিক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সড়কের ওপর থাকা অবৈধ দোকানপাট সরানো, অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং পার্শ্বসড়কগুলো দখলমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
যানজটের বিষয়ে ভোলা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক আজিজুল করিম বলেন, জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তারপরও পরানগঞ্জ বাজার নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। শিগগিরই সেখানে ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হবে।