গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাসায় যাওয়ার পথে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক। ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তাদের পাঁচ লক্ষ টাকা। এসময় ছিনতাইকারীদের হেঁচকা টানে পড়ে আহত হন তিনি। রবিবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার হিজলতলী এলাকায় বংশাই ব্রীজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এ এম এম তৌহিদুর রশিদ। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার হিজলতলী এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদের ছেলে।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এ এম এম তৌহিদুর রশিদ তার বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে নিয়ে উপজেলার কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় কালিয়াকৈর সোনালী ব্যাংক শাখায় যান। ওই ব্যাংক থেকে তার বাবা হারুনুর রশিদ পাঁচ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর তিনি তার বাবা ও মামা তাসনিম উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশায় উঠেন।

যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার হিজলতলী এলাকায় বংশাই ব্রীজের কাছে পৌঁছলে পেছন থেকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার ওই অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। এ সময় প্রাইভেট কার থেকে এক ব্যক্তি হাত বাড়িয়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়।

ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে পড়ে আহত হন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। এরপর ওই প্রাইভেট কারটি নিয়ে দ্রুতগতিতে টাঙ্গাইলের দিকে চলে যান ছিনতাইকারীরা। পরে পুলিশের জরুরি সেবার নম্বরে ফোন করেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা তৌহিদুর। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা এ এম এম তৌহিদুর রশিদ বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এ এম এম তৌহিদুর রশিদ বলেন, ওই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অটোরিকশা যোগে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলে পেছন থেকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার এসে গতিরোধ করে। পরে প্রাইভেট কার থেকে একজন হাত বাড়িয়ে আমার কাছে থাকা টাকার ব্যাগ জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যায়। পুলিশের জরুরি সেবার নম্বরে ফোন করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।