বগুড়ার নন্দীগ্রামে অগ্নিকান্ডে তিন ভাইয়ের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে শতাধিক মণ ধান, প্রায় ৪০ মণ চাল, টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও সাতটি ছাগল পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এ ঘটনায় রেজাউল করিম (৫৫) নামে এক ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছেন। সোমবারা (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের গুলিয়া কৃষ্ণপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত তিন ভাই হলেন মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মাহফুজুল হক (৬০), রেজাউল করিম (৫৫) ও শহিদুল ইসলাম (৫০)।

ক্ষতিগ্রস্ত শহিদুল ইসলাম জানান, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বাড়িতে আগুন লাগে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় ঘর থেকে কোনো মালামাল বের করতে পারিনি। আমার ভাই রেজাউল করিম ঘরের ভেতরে থাকা নগদ টাকা বের করতে গিয়ে দগ্ধ হন। তার মুখ ও হাত পুড়ে গেছে। তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাহফুজুল হক বলেন, বাড়িতে শতাধিক মণ ধান, আনুমানিক ৪০ মণ চাল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, কয়েকটি সোফা, খাটসহ বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র, সাতটি ছাগল, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নগদ টাকা ছিল। আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নন্দীগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাব-অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিন ভাইয়ের বাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং উপস্থিত সবার সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। তিনি আরও বলেন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলেও তাদের পৌঁছানোর আগেই অগুনে ব্যাপক ক্ষক্ষতি হয়।

এদিকে, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরদার মো. ফজলুল হক, থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ও ইউপি সদস্য মুকুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।