গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন বাড়ানোর দাবীতে মঙ্গলবার প্রায় দিনভর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও একটি আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্রমিকরা। এসময় মহাসড়কে আগুন ও যানবাহন ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েন পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও আতঙ্কে বেশকিছু শিল্পকারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসী, শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করে সরকার। ওই ঘোষণার পর হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পন্য সামগ্রীর বাজার দর। কিন্তু বাজারের সবকিছুর দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবার-পরিজনসহ জীবন-যাপন করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা।

এসব নিয়ে কিছুদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এর জেরে বেতন বাড়ানোর দাবীতে মঙ্গলবার সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার আকলিচালা এলাকায় এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পাশের মৌচাক-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। এসময় তারা আশপাশের বিভিন্ন কারখানার মুল ফটকে যান এবং কারখানা ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে কয়েকটি কারখানার মুল ফটকে ইটপাটকেল ছুড়েন বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা। এসময় পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। পরে বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। এদিকে ওই আন্দোলনে একত্রতা প্রকাশ করে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার শ্রমিকরাও ওই মহাসড়কের মাঝখানে আগুন জ¦ালিয়ে অবরোধ করে। ওই পৃথক স্থানে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খানের নেতৃত্বে মহাসড়কে অবস্থানরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিক্ষুব্দ শ্রমিকদের ইটপাটকেলে তার মাথা ফেটে যায়। শ্রমিকদের হামলায় তিনিসহ তার সমর্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে তারা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এক পর্যায় পুলিশের চেষ্টায় বিকেল ৪টার দিকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করলে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। এরপর ধীরে ধীরে ওই মহাসড়কে যান চলাচল স্বভাবিক হয়। এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু হলেও শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের অবরোধের কারণে আমরা মহাসড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে পড়ি। প্রচন্ড গরম ও যানজটে একেবারে নাজেহাল অবস্থা।

বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পর বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি। আমরা যে বেতন পাচ্ছি, তা দিয়ে সংসার চলছে না। এখন আমাদের খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। এ কারণে আমাদের বেতন বাড়াতে হবে, তা না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান জানান, আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তারা হামলা চালায়। তারা গাড়িও ভাংচুর করে। এসময় তাদের ছুড়া ইটপাটকেলে আমিসহ আরো কয়েকজন আহত হন।

গাজীপুর-২ শিল্প পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে কোনো অপ্রীকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।