নওগাঁর বদলগাছীতে বউ বেঁচে থাকার পরেও শরীয়া পরিপন্থী অবৈধভাবে শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর নানা উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনাটি টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা, আইনজীবী সহকারি (মহুরি) ও টিকটকার মাসুদ রানা তাঁর আপন সুন্দরী শ্যালিকা পূর্ণিমা (২১) কে প্রেমের অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে অবৈধভাবে মেলামেশার নেশায় মেতে ছিলেন। পরে পেটে বাচ্চা চলে এলে তড়িঘড়ি করে বিয়ে করো নিজেরাই প্রকাশ্যে আনেন। এতে নাকি তার বউ মৌসুমীর সম্মতি ছিল।

এ অবৈধ বিয়ের ঘটনা মুহূর্তে চারদিকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

এরপর ফেসবুক লাইভে এসে দর্শকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। লাইভে দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করার ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানেন বলেও মন্তব্য করেন। এ নিয়ে সমালোচনা আরও বাড়ে।

পরে নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী শাহীন কাদির ডলার তাকে নিজের সেরেস্তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

এরপর এই পরিস্থিতির মধ্যে বদলগাছী ছাড়তে তিন ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় স্থানীয়রা। পরে ভাড়া বাসার আসবাবপত্র নিয়ে দুই স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মহাদেবপুরের মাতাজি হাট এলাকার নারায়নপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নিতে যান মাসুদ রানা। তবে সেখানেও স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাকে অবরুদ্ধ করে এবং মুখে কালি ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

স্থানীয় মৌলবী আবদুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, ইসলাম ধর্মের শরীয়তে একই সাথে আপন দুই বোনকে বিয়ে করার কোন বিধান নেই। এটা সম্পূর্ণভাবেই হারাাম সম্পর্ক। বড় বোনকে তালাক দিতে হবে। না হয় এ বিয়ে ভেঙ্গে দিতে হবে।

এদিকে এ ঘটনার সাথে জড়িতদেরসহ নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী)ও বিয়ে পড়ানো মৌলবীকেও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পরে রাইগাঁ পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে মুক্ত হয়ে দুই স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে সেখান থেকে চলে যান তিনি। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ওই রাতেই, রাত ১১টার দিকে বদলগাছীতে আবারও দেখা যায় মাসুদ রানাকে। এ সময় এক সচেতন নাগরিক তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। পরে ভিডিও বার্তায় নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চান তিনি। কাজটিকে ভুল স্বীকার করে এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর না যাওয়ার কথা জানান।

একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিতর্ক, কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি, এলাকা ছাড়ার পরিস্থিতি এবং শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনায় নওগাঁ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে তালাক দেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে মাসুদ রানার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।