ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের চিঠির জবাবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের সংকল্প, দৃঢ় প্রত্যয় ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জ্ঞান, ঈমান, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি ইরানের শক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি প্রচেষ্টা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের তথ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের একদল শিক্ষার্থী তাঁর কাছে চিঠি পাঠান। এসব চিঠির জবাবে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করার কথা জানান।
চিঠির উত্তরে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী লেখেন,
‘আমার প্রিয় সন্তানেরা, তোমাদের প্রতি সালাম।’
তিনি বলেন, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা প্রকাশ করে যেসব তরুণ ও শিক্ষার্থী চিঠি লিখেছেন,তাঁদের বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সংকল্প, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও দায়িত্ববোধ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবের নেতা এই অঙ্গীকারকে অত্যন্ত মূল্যবান আমানত হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর ভাষায়, এই দৃঢ় অঙ্গীকারের শিকড় প্রোথিত রয়েছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিশুদ্ধ ইসলামের শিক্ষায় এবং ইমাম খোমেনি ও শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ির উত্তরাধিকারে। এই অঙ্গীকারই নেতৃত্ব ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি ও ঐক্যের বন্ধন তৈরি করেছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে নিজেদের জ্ঞান, ঈমান, আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং পবিত্র কোরআন ও আহলে বাইতের শিক্ষার গভীর জ্ঞান দিয়ে সজ্জিত করতে হবে। পাশাপাশি কাজের গতি বাড়ানো,উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রিয় ইরানের শক্তি ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী আশা প্রকাশ করেন, মহানুভব অভিভাবক ইমাম মাহদির (আ.) দোয়ায় অঙ্গীকারবদ্ধ এই ঐক্যবদ্ধ কাফেলার পক্ষে অগ্রগতি ও ইসলামি-ইরানি সভ্যতার শিখরে পৌঁছানোর পথ আরও সহজ ও দ্রুততর হবে।
চিঠির শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক শুভকামনা জানান।
চিঠিটির তারিখ ৬ আবান ১৪০৫ ফার্সি, যা ২৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের সমতুল্য।