২০১৯ সালের পর থেকে আফ্রিকায় কূটনৈতিক উপস্থিতি ও বাণিজ্য জোরদারের চেষ্টা করছে রাশিয়া। মস্কোয় তৃতীয় রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে পুতিনের লক্ষ্য, পশ্চিমা প্রভাবের বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা। তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে রাশিয়া-আফ্রিকার এ অংশীদারত্ব কতটা টেকসই হবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আফ্রিকাকে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম শক্তিকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরে মহাদেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব উন্নয়নপথ বেছে নেওয়ার অধিকারের ওপর জোর দিয়েছেন পুতিন। তাঁর দাবি, পশ্চিমারা ঋণ ও অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে আফ্রিকার দেশগুলোকে নির্ভরশীল রাখতে চায়।
ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘সার্বভৌম উন্নয়নের স্বার্থে সহযোগিতাই রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনের মূল বিষয়। দুই পক্ষের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে। রাশিয়ার ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা এবং আফ্রিকার অংশীদারদের ওপর পশ্চিমা চাপও এই অগ্রগতি থামাতে পারেনি।’
২৮ ও ২৯ অক্টোবরের সম্মেলনে অংশ নেয় আফ্রিকার ৪৮টি দেশের প্রতিনিধি, যার মধ্যে ২২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানও আছেন। রাশিয়ার লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমর্থন বৃদ্ধি ও আফ্রিকায় কৌশলগত অবস্থান শক্ত করা।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে উঠে এসেছে, ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সহযোগিতার নতুন কর্মপরিকল্পনা।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘রাশিয়ার বড় বড় কোম্পানি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সফলভাবে কাজ করছে। জ্বালানি, পরিবহন অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে যৌথ প্রকল্প বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
আফ্রিকার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরইমধ্যে ৪০টিরও বেশি আফ্রিকান দেশ রাশিয়ার গম ও সার পাচ্ছে।’২০১৯ সালে দুই পক্ষের বাণিজ্য ছিল ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ২৭ দশমিক ১ বিলিয়নে। এর মধ্যে রাশিয়ার রপ্তানি ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে আমদানি মাত্র ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন। একই সময়ে আফ্রিকার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ৩৪৮ বিলিয়ন ডলারের।