মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ও নতুন অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি ব্রিফিং করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কমান্ড সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে।

আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী বা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান এয়ার ফোর্স জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ ক্যাবিনেট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সামরিক এই শীর্ষ নেতৃত্ব হোয়াইট হাউসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক ও কমব্যাট অপারেশন পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। আর এই সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা আক্রমণ থেকে বাঁচতে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন সেনা ও সৈন্যদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলে অন্তত ১০টি বড় ধরনের মার্কিন সামরিক কার্গো ও পরিবহণ বিমান অবতরণ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব সামরিক পদক্ষেপ ও বিমান স্থানান্তর চূড়ান্তভাবে নতুন কোনো হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন কি না, তা নিয়ে পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।