উন্নত চিকিৎসার অভাবে বাবাকে হারানোর পর ভোলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) চালুর দাবি জানিয়েছেন নয়ন নামের এক যুবক। নয়ন ভোলা সদর উপজেলার বাসিন্দা। গত ২৬ অক্টোবর রাতে তারা বাবা মারা গেলে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এরপর ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনে হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে জোরালো দাবি জানান। তার এই নিঃসঙ্গ ও শান্তিপূর্ণ চাওয়া দ্বীপজেলা ভোলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সুচিকিৎসার দাবিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
নয়ন জানান, গত ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার অসুস্থ বাবাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে গুরুতর রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় আইসিইউ বা সিসিইউ সুবিধা না থাকায় এবং উন্নত চিকিৎসার সুযোগের অভাবে বাবাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা ফেসবুকে শেয়ার করার পাশাপাশি তিনি হাসপাতালের সামনে আইসিইউ বা সিসিইউ সুবিধার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়ান। অন্য কোনো পরিবারকে যেন আর চিকিৎসার অভাবে স্বজন হারানোর এই অকাল বেদনা সইতে না হয়। তাই তিনি দ্রুত এই হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর দাবি জানান।
ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যা ভিত্তিক চিকিৎসাসেবা (আইসিইউ ও সিসিইউ) নিশ্চিত করার দাবি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের। কিন্তু তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত জীবন হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নয়নের এই আকস্মিক প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের সেই প্রাণের দাবিকেই আবারও তীব্রভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ না থাকা জনস্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি। নয়নের মতো আর যেন কোনো সন্তানকে সুচিকিৎসার অভাবে বাবাকে হারাতে না হয়— সেজন্য দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট চালু করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০২১ সালে হাসপাতালটিতে আইসিইউ বেড ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এলেও দক্ষ জনবলের অভাবে সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেস্থেসিস্ট, নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত জনবল চেয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে দ্রুত আইসিইউ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে মুমূর্ষু রোগীদের ভোলাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।