গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শনিবার দুপুরে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্রমিকরা। তাদের বেতন নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা করার দাবীতে এ আন্দোলন করেন। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তীব্র যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েন পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এলাকাবাসী, শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণায় হু হু করে বাড়তে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পন্য সামগ্রীর বাজার দর। কিন্তু শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন কাঠামো বাড়েনি। ফলে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতিতে পরিবার-পরিজনসহ সংসার চালানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। তারপরও তারা প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে কর্মস্থলে কাজে যোগ দেন। কিন্তু তারা দুপুরে খাবারের জন্য কারখানা থেকে বের হয়ে আর কর্মস্থলে ফিরে যাননি।
প্রথমে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় নূন্যতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবীতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা। পরে তারা মহাড়কে আগুন জ¦ালিয়ে বিভিন্ন শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় তারা আশপাশের বিভিন্ন কারখানার মুল ফটকে যান এবং কারখানা ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এক পর্যায়ে কয়েকটি কারখানার মুল ফটকে ইটপাটকেল ছুড়েন বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা। এসময় পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। মুহুর্তের মধ্যেই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা উপজেলার হরিণহাটি, সফিপুর, মৌচাক, খাড়াজোড়া ফায়ার সার্ভিস এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় বৃষ্টি নামলেও শ্রমিকরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। পরে মহাসড়কে আটকে থাকা কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করেন বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা।
এতে ওই মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েন পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা বলেন, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হলেও তাদের বেতন বাড়েনি। বর্তমানে বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় কম বেতনে সংসার অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ কারণে নূন্যতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবীতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমাদের বেতন বাড়াতে হবে, তা না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
এ আন্দোলনে অস্তুষ্ট প্রকাশ করে পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও রোগীর স্বজনরা জানান, দেশের মানুষ কোনো কিছু হলেও তারা মহাসড়ক অবরোধ ও যানবাহন ভাংচুর করে। আজকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, দুপুরের লাঞ্চের পর শ্রমিকরা কর্মস্থলে না গিয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। তবে কোনো অপ্রীকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার দিনভর কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নূন্যতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবীতে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।