গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে লংমার্চ ও ঝিনাইদহে পথসভা শনিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আযম মো. আবু বকর।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালেব, জেলা নায়েবে আমির আবুল আলিম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যাপক আব্দুল আওয়াল। পথসভায় বক্তারা বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। তাঁরা অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের ওপর নতুন করে স্বৈরশাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের প্রতি সরকার প্রতারণা করছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

অবিলম্বে জনগণের গণরায় মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান বক্তারা। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ছাত্র-জনতা লুটেরা, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রক্ত দেয়নি। জনগণ কোনোভাবেই লুটপাট, চাঁদাবাজি, অন্যায় ও অবিচার মেনে নেবে না। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিটি অন্যায় ও অপরাধের হিসাব একদিন দিতে হবে। অন্যের অধিকার হরণকারীদেরও জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। বর্তমান সরকার বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পথেই হাঁটছে বলে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না।

এ সময় বক্তারা সাত দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। এদিকে লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের বারবাজার থেকে শেখপাড়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অবস্থান নেন। ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতাদের একনজর দেখতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।