কুড়িগ্রামের উলিপুরে দারিদ্র্যতাকে হার মানিয়ে মেডিকেলে চান্স পাওয়া আশিকুল রিক্সা চালক বাবার স্বপ্ন পূরণে বদ্ধপরিকর। ডাক্তার হয়ে দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে চায় সে। একদিন বড় ডাক্তার হয়ে গরিব ও মেহনতী মানুষের সেবা দিবে বিনা পয়সায়, এমন আকুতি বাবা শফিকুলের। অদম্য সংকল্প, অধ্যাবসায় ও দৃঢ় মনোবল থাকলে যে তার সফলতাকে কেউ আটকাতে পারেনা,তারই উদাহরণ আশিকুল।

‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’ এ প্রবাদটিকেও যেন বাস্তবে রূপ দিয়েছে সে। উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগরাকুড়া বাজার সংলগ্ন গ্রামে বসবাস আশিকুলের। দারিদ্র্যতার কষাঘাতকে সঙ্গী করেই বেড়ে উঠে সে। কিন্তু দারিদ্রতা কখনো আটকিয়ে রাখতে পারেনিতাকে। অদম্য ইচ্ছা শক্তি তাকে এমন সাফল্য এনে দিয়েছে।

প¦ার্শবর্তী গ্রাম হোকডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। ২০২৫ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সে জামালপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়।তিন ভাই বোনের মধ্যে আশিকুল মেঝো।

অভাবের সংসারে দুই মেয়েরই বিয়ে দিয়েছে বাবা শফিকুল। বাবা দেড় যুগেরও অধিক সময় ধরে ঢাকা শহরে রিক্্রা চালিয়েই দুই মেয়ের বিয়ে দেয়। আশিকুলের স্বপ্ন পূরণে উৎসাহ যোগায় বাবা শফিকুল ও মা দুলালী বেগম।নেফরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহবুবার রহমান শাহীন জানান, এমন পল্লীতে আতিকুল এর মত ভদ্র ও ন¤্র ছেলে পাওয়া ভার।আশিকুলের এমন সাফল্যে তার শিক্ষকরা গর্বিত, সাথে এলাকাবাসীরাও।

আশিকুল ইসলামের এ অনন্য সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে, উলিপুর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে তার হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।

সহায়তা পেয়ে আশিকুল ইসলাম জানায়, উপজেলা প্রশাসনের এই সহায়তা ও অনুপ্রেরণা আমাকে আরওএগিয়ে যেতে সাহস জোগাবে। আশিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানায়, আমি ভালো চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।