ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র বলেছেন, নতুন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা এবং নতুন ভৌগোলিক অঞ্চলে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা এখন তাদের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, “আমরা বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছি।” তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারকে উৎখাত এবং দেশটিকে বিভক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিল, কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, শত্রুপক্ষ বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। শত্রুর বিজয় কিংবা পরাজয় মূল্যায়নের মাপকাঠি হলো তারা কী কী লক্ষ্য অর্জন করতে চেয়েছিল, তা বিবেচনা করা। দক্ষিণ ইরানে তাদের লক্ষ্য অর্জনে শত্রুপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন তারা আলোচনা ও মধ্যস্থতার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।

মোহেব্বি এই যুদ্ধে শত্রুপক্ষের দ্বিতীয় পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি ছিল মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বে মার্কিন উপস্থিতির মূল ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করত, তারা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী থাকা এবং পশ্চিম এশিয়ায় কয়েক দশক ধরে উপস্থিতি বজায় রাখার পরও তারা কয়েক ঘণ্টার জন্যও হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারেনি।

আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, বিশ্ব বুঝতে পেরেছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর বক্তব্যের অসংগতির কথা উল্লেখ করে মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ছিল এই অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু আজ এসব ঘাঁটি ইরানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে এবং সেগুলো এখন স্বাগতিক দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে পারেনি, সেখানে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নই আসে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে তৈরি করা ভাবমূর্তি ভেঙে পড়ার প্রসঙ্গে মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে এমন একটি ধারণা তৈরি করেছিল যে তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা ব্যবস্থা রয়েছে এবং তাদের গোয়েন্দা স্থাপনাগুলো কেউ শনাক্ত করতে পারবে না। কিন্তু ইরান সেসব স্থাপনা শনাক্ত ও চিহ্নিত করে সেগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, বিশ্ব এখন বুঝতে পেরেছে যে মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোও শনাক্ত ও অনুসরণ করা সম্ভব। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় পরাজয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আল্লাহর অনুগ্রহে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশযুদ্ধের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করা হয়েছে।

মোহেব্বি এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরাজয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডলারের দাম ওঠানামা করিয়ে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে যুক্তরাষ্ট্র এত দিন বিশ্বকে চাপে রাখত। কিন্তু আজ দেশটি নিজেই সংকটে পড়েছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরাজয়ের মুখে পড়েছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ও প্রভাবের অবসান ঘটেছে। এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা সম্ভব এবং এমনকি নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার সক্ষমতাও দেশটির নেই।

বক্তব্যের অন্য একটি অংশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক নির্দেশনার প্রসঙ্গ তুলে মোহেব্বি বলেন, ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া এসব নির্দেশনা যুদ্ধের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি প্রস্তুত এবং শত্রুর যেকোনো পদক্ষেপের কঠোর জবাব দিতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না- সর্বোচ্চ নেতার এই নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত্রুকে আঘাত করা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে এখন একটি বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতার ধারণা ব্যাখ্যা করে মোহেব্বি বলেন, সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা বলতে বোঝায়, ভবিষ্যতে কোনো দেশ যেন ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার সাহস না পায়, এমনকি ইরানের ভূখণ্ডের প্রতি লোলুপ দৃষ্টিও দিতে না পারে।

সবশেষে তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নতুন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা এবং নতুন ভৌগোলিক অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে।