ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তার চূড়ান্ত রূপ! ৮০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও স্কোরলাইন ১-১। ঠিক তখনই জাদুকরি এক মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিলেন লিওনেল মেসি। প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত এক গোলে ইন্টার মায়ামিকে এনে দিলেন রোমাঞ্চকর জয়। এর আগে সমতাসূচক গোলেও রেখেছিলেন অবদান। মেসির এক গোল ও এক অ্যাসিস্টে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনকে ২-১ গোলে হারিয়ে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মায়ামি।
রোববার রাতে নিউ ইংল্যান্ডের জিলেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল ইন্টার মায়ামি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। মায়ামির হয়ে ৬৯ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন হের্মান বেরতেরামে। এরপর ৮৩ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মেসি। নিউ ইংল্যান্ডের একমাত্র গোলদাতা দানিয়েল গাজদাগ।
এই জয়ে ৩৩ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে ইন্টার মায়ামি। সমান ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে নিউ ইংল্যান্ড। নিয়মিত মৌসুমে দুই দলেরই বাকি আর একটি করে ম্যাচ। ফলে প্লে-অফে ভালো অবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই জয়ের গুরুত্ব অনেক।
আগের দুই ম্যাচে জয়হীন থাকা মায়ামির জন্য অবশ্য শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ২৮ মিনিটে বেরতেরামের একটি শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাট টার্নার। ৩৭ মিনিটে কাছ থেকে শট নিলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন স্বাগতিকদের ব্রুকলিন রেইনস।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫৩ মিনিটে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত দিয়ে মায়ামির ডিফেন্ডার গঞ্জালো লুহানকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকেন পেইটন মিলার। তাঁর বাড়ানো বলে ইলাই ফেইনগোল্ডের ব্যাকহিল পাস থেকে গোল করেন গাজদাগ।
পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের গতি বাড়ায় মায়ামি। ৬৫ মিনিটে মেসির একটি শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন টার্নার। ফিরতি বলে বেরতেরামের প্রচেষ্টাও গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন রেইনস। তবে চার মিনিট পর আর মায়ামিকে আটকাতে পারেনি স্বাগতিকরা।
৬৯ মিনিটে তেলাসকো সেগোভিয়ার উঁচু করে বাড়ানো বল বক্সে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে পান মেসি। সরাসরি গোলে হেড করার মতো অবস্থানে ছিলেন না তিনি। তাই বলটি আলতো করে পেছনে ভাসিয়ে দেন। সুযোগ বুঝে এগিয়ে এসে হেডে গোল করেন বেরতেরামে। সমতায় ফেরে ইন্টার মায়ামি। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে দুই দলই। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেন মেসি।
৮৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট থেকে প্রায় ৩০ গজ দূরে আলগা বল পেয়ে এগিয়ে যান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের দিকে ঢুকে পড়েন তিনি। মাঝপথে সেগোভিয়ার সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর বাঁ পায়ে নিচু শট নেন। বল জড়িয়ে যায় জালের বাঁ দিকের নিচের কোণে। দুর্দান্ত সেই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মায়ামি। এটি চলতি এমএলএস মৌসুমে মেসির ২৬তম গোল। এর মাধ্যমে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। তবে মেসির গোলের পরও ম্যাচে নাটকীয়তা বাকি ছিল।
৮৭ মিনিটে একটি আক্রমণ থেকে বল মায়ামির জালে জড়ায় নিউ ইংল্যান্ড। প্রথমে আত্মঘাতী গোল হিসেবে সমতা ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করেন রেফারি সের্গেই বয়কো। আক্রমণের সময় লুকা লাঙ্গোনি অফসাইডে ছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা। টানা চার জয়ের পর নিজেদের মাঠে হারের স্বাদ পায় নিউ ইংল্যান্ড।