নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেল পুলিশ।
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেফতার নুরুজ্জামান মিন্টুকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর মিন্টুকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ডিবি ওসি জানান, প্রথম দফার রিমান্ডে মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোর ৩টার দিকে আলামিন হোসেন (২৬) ও আনিসুর রহমান (২৫) নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি শাকিল ইসলামের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর নিহতের বাবা রবিউল ইসলাম গুরুদাসপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
শাকিলের মৃত্যুর দিন রাত ১০টার দিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে প্রথম দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। এদিকে মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে শাকিলের জানাজার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের একটি শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটোর জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জেলা বিএনপিতে আলোচনা হয়। এ নিয়ে দীর্ঘ আট ঘণ্টার বৈঠক করে জেলা বিএনপি। বৈঠকে শাকিল হত্যা মামলায় তার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সংসদ সদস্যের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, বৈঠকে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা জেলা কমিটির নেই। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ অক্টোবর বিকালে নিহত শাকিলের বাড়িতে যান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব। তারা পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং অপরাধী যে-ই হোক, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।