২৫টিরও বেশি এআই মডেলসমৃদ্ধ নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘রাইজ এআই’ বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে। গবেষণা, শিক্ষা ও কনটেন্ট তৈরির বিভিন্ন AI টুল তরুণদের জন্য আরও সহজলভ্য করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়েছে।

ভিয়ন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান তেরজিওগলু আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করেন। একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাইজ AI ব্যবহার করা যাবে। দেশের সব মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকদের জন্যই প্ল্যাটফর্মটি উন্মুক্ত।

রাইজ এআই – তে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, ছবি তৈরি, ভিডিও নির্মাণ এবং অডিও তৈরির বিভিন্ন সুবিধা। প্ল্যাটফর্মটিতে তিনটি প্রধান ফিচার রয়েছে ইমাজিন স্টুডিও, স্টাডি হাব এবং প্লাগইনস। ইমাজিন স্টুডিওর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরি করতে পারবেন। অন্যদিকে, স্টাডি হাবে রয়েছে শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুবিধা। আর প্লাগইনসের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ করার বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটিতে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একটি বিনামূল্যের প্যাকেজের পাশাপাশি পাঁচটি সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজ রয়েছে, যেগুলোর মূল্য যথাক্রমে ১০০ টাকা, ৩০০ টাকা, ৫০০ টাকা, ১,০০০ টাকা এবং ১,৫০০ টাকা।

মোবাইল অপারেটর নির্বিশেষে ব্যবহারকারীরা বাংলাদেশি টাকায় এসব প্যাকেজের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি রাইজ এআই এর লক্ষ্য হলো শিক্ষা, গবেষণা, কনটেন্ট নির্মাণ এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে এআই ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া। পাশাপাশি, প্ল্যাটফর্মটি তরুণদের নতুন ধারণা বিকাশ, সৃজনশীলতার সম্ভাবনা অন্বেষণ এবং নতুন সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে।

বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোহান বুসে বলেন, “আগামী প্রজন্মের উদ্ভাবন যেন ভৌগোলিক অবস্থান, ক্রয়ক্ষমতা কিংবা প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সীমাবদ্ধতায় আটকে না থাকে। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তি সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। রাইজ এআই-এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বমানের প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য করে তুলছি, যাতে তরুণরা শুধু ডিজিটাল ভবিষ্যতের অংশ হতে পারে তাই নয়, বরং সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির প্রতি রাইজের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তের তরুণদের কাছে উদীয়মান প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও এগিয়ে গেল।