রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীর নামে হত্যা চেষ্টার পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের এক মাস অতিবাহিত হলেও রহস্য জনক কারনে আসামীদের ধরছেনা পুলিশ। মামলার প্রধান আসামী কামারগাঁ ইউপির ছাঐড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবেক সেচ্ছাসেবক দলের নেতা সুলতান আহমেদ ও আরেক মামলার প্রধান আসামী উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাসুদ করিম।

পৃথক পৃথক হত্যার চেষ্টা মামলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি। প্রধান শিক্ষক সুলতানা আহমেদ ব্যাপক প্রভাবশালী হওয়ার কারনে পুলিশ তাকে ধরছে না বলে দাবি করেন মামলার বাদিসহ অন্য আসামীরা। এছাড়াও ছাত্র দলের আহবায়ক মাসুদ করিমকেও পুলিশ আটক করছে না।

মামলার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও গ্রেফতর না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন, বিরাজ করছে সমালোচনা। যদি আসামী আটক না করা হয় তাহলে থানায় কেন দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হল এমনও প্রশ্নও উঠেছে। কার ইশারায় মামলা, আবার কার ইশারায় আটক না করা এমন নানা প্রশ্ন জনগণের।

তাহলে কি পুলিশ দলীয় লেবাসের মধ্যেই চলছে, তারা কি দলীয় লেবাস থেকে বের হতে পারছেনা, নাকি রাজনীতির কাছে বন্দী হয়ে পড়ছে পুলিশ প্রশাসন। মামলার প্রেক্ষিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গ্রেফতারের জোর দাবি উঠেছে। এঘটনায় সুলতান গ্রুপ ও মাসুদ করিম গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে পুনরায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মামলার এজহারে উল্লেখ, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির ছাঐড় মোহাম্মাদ আলীপুর গ্রামের ধানী জমিতে হাস নামাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়। এঘটনায় মোহাম্মদআলীপুর গ্রামের শরিফা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করার পরামর্শ দেয়।

এরই প্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখে সুলতান মাস্টারের মালার মোড়ে অবস্থিত বাসার নিচ তলায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে মিমাংসা হয়। কিন্তু মিমাংসা শেষে মালার মোড়ে জালালের হোটেলের সামনে উভয় পক্ষ কথা কাটাকাটির জের ধরে মারপিটে জড়িয়ে পড়ে। লাঠিসোটা নিয়ে মারপিটে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। এদের মধ্যে মাসুদ করিম গ্রুপের রতনের মাথা ব্যাপকহারে ফেটে যায়। তার মাথায় ১০ টির মত সেলায় দেয়া লাগে।

সুলতান গ্রুপের আইয়ুব নামের ব্যক্তিও মাথায় আঘাত পায়। এঘটনায় সুলতান গ্রুপের মিলন বাদি হয়ে অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে ছাত্র দলের আহবায়ক মাসুদ করিমকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। অপর দিকে মাসুদ করিমের গ্রুপের রেবিনা খাতুন বাদি হয়ে সুলতান মাস্টারকে প্রধান আসামী করে ১০ জনের নাম উল্লেখ সহ ৮/১০ অজ্ঞাত নামা আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মাসুদ করিম গ্রুপের দাবি, মারপিটের দিন মাসুদ করিম এলাকায় ছিল না। সে ঢাকায় অবস্থান করছিল। কিন্তু আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তার নাম দেয়া হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে সবাই জামিন পেয়েছে। কিন্তু রুবেলকে জেলে যেতে হয়েছিল। অথচ সুলতান মাস্টারসহ তাদের কোন আসামী জামিন নেয়নি। প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। আবার শারদীয় দূর্গা পুজার সময় তদন্ত ওসির পাশে বসে অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে ছিলেন তিনি ।

তবে সুলতান মাস্টার জানান, ওসির সাথে কথা হয়েছে তিনি মামলা ভুল করে রেকর্ড করেছেন। আমি চেষ্টা করছি বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করার জন্য।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহমুদুল হাসানের সরকারি মোবাইলে যোগাযোগ করে আসামীদের আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি মিটিংয়ে আছি তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুব জানান, আসামী আটক করা হয়নি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান দিয়ে আসামী আটক করা হবে।