মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষ (উচ্চকক্ষ সেনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ)— উভয়টিতেই বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নিরঙ্কুশ জয়ের মুখে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
সিএনএনের লাইভ নির্বাচনি ফলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের একচ্ছত্র রাজনৈতিক প্রভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০০ সদস্যের সেনেটে ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যে ৫৩টি আসন নিশ্চিত করে নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে রিপাবলিকানদের ঝুলিতে রয়েছে ৪১টি আসন। ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ ৭টি আসন রিপাবলিকানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যে ২১১টি আসনে জয় নিশ্চিত করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ২৫টি আসন প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। বিপরীতে রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১২৪টি আসন।
কংগ্রেসে এই অভূতপূর্ব হারের ফলে ট্রাম্পের ক্ষমতার পূর্ণ অবসান না ঘটলেও আগামী দিনগুলোতে তার প্রশাসনিক ও নীতিগত এজেন্ডা মারাত্মকভাবে স্থবির হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিচারক নিয়োগ, বাজেটের অনুদান অনুমোদন এবং গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের মতো বিষয়গুলোতে প্রেসিডেন্টকে এখন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে আপস করে চলতে হবে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি, ইসরায়েল ও ইরান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব নীতির ওপর ডেমোক্র্যাটদের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি পাবে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং ট্রাম্পের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে জনগণের এই স্পষ্ট রায় ওয়াশিংটনের শক্তির ভারসাম্যে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করল।
তবে মার্কিন সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে হটাতে হলে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট প্রয়োজন হয়, যা বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এককভাবে অর্জন করা কঠিন।