ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। এ লক্ষ্যে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাঁচটি বিরোধী দলের নেতা।আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো তেল আবিবের উত্তরে হার্জলিয়ায় যৌথ বৈঠকে বসেন বিরোধী দলগুলোর নেতারা। বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে তারা জানান, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে প্রধানমন্ত্রী পদে আইজেনকোটের নাম সুপারিশ করবেন তারা।
নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা তৈরি এবং জোট গঠনের চুক্তি চূড়ান্ত করতে আলোচক দলগুলো দ্রুত কাজ শুরু করবে।বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু সরকারকে সরিয়ে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান বিরোধী নেতারা।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি, বিরোধী দলগুলো ৪৮টি এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৯টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরুর এক দিন আগে বিরোধী নেতারা আইজেনকোটের প্রতি সমর্থন জানান। বৈঠকে আইজেনকোটের সঙ্গে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান, ডেমোক্র্যাটস দলের ইয়ার গোলান এবং ইয়েশ আতিদ দলের নেতা ইয়ার লাপিদ।
আইজেনকোটের প্রস্তাবিত চারটি মূলনীতিতেও একমত হয়েছেন বিরোধী নেতারা। এর মধ্যে রয়েছে, নতুন সরকারের সব শরিক দলকে ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
বিরোধী দলগুলোর এই ঐক্য নেতানিয়াহুর সামনে নতুন সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে বিরোধীদের সমর্থন পেলেও আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।