দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও দ্রুত করতে ‘মুক্ত পে’ নামের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বাংলালিংক। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা টাকা পাঠানো, বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধ এবং যেকোনো মোবাইল অপারেটরের নম্বরে রিচার্জ করতে পারবেন। উদ্বোধনী অফারের আওতায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টাকা পাঠানো ও বিল পরিশোধে গ্রাহকদের কোনো ফি দিতে হবে না।

‘মুক্ত’ শব্দের অর্থ স্বাধীন। সেই ভাবনা থেকেই ‘মুক্ত পে’ চালু করা হয়েছে, যাতে দৈনন্দিন লেনদেনে বাড়তি সময়, কষ্ট ও খরচের ঝামেলা থেকে গ্রাহকেরা মুক্তি পান। গুগল প্লে স্টোর ও আইওএস অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে যেকোনো অপারেটরের গ্রাহকেরা এ অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারবেন। আর বাংলালিংক গ্রাহকেরা ইন্টারনেট সংযোগবিহীন সাধারণ মোবাইল ফোন থেকে *৫২৫# ডায়াল করে এ সেবা নিতে পারবেন।

‘মুক্ত পে’এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ এবং সব অপারেটরের নম্বরে মোবাইল রিচার্জ করা যাবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড থেকে ওয়ালেটে টাকা যোগ করার সুবিধার পাশাপাশি বাংলালিংকের সব সেবা ব্যবহারের সুযোগও থাকছে এ অ্যাপে।

উদ্বোধনী অফারের অংশ হিসেবে ওয়ালেট থেকে ওয়ালেটে টাকা পাঠানো এবং বিল পরিশোধে অ্যাপটিতে প্রথম তিন মাস কোনো চার্জ নেওয়া হবে না। এ ছাড়া বাংলালিংক নম্বরে প্রথম তিনবার রিচার্জে বোনাস পাবেন গ্রাহকেরা।

প্ল্যাটফর্মটি চালুর বিষয়ে বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, “মুক্ত পের মাধ্যমে সংযোগ সেবার বাইরেও গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলালিংক। স্মার্টফোন হোক বা সাধারণ মোবাইল ফোন, এ সেবার মাধ্যমে ব্যক্তি, মার্চেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সহজেই ডিজিটাল অর্থনীতির অংশ হতে পারবেন।বিশেষ করে, যেসব জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখনো ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতার বাইরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও সহজলভ্য করে তুলবে মুক্ত পে। বাংলাদেশে আরও বিস্তৃত ডিজিটাল আর্থিক সেবা চালুর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এ প্ল্যাটফর্ম।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য রয়েছে ‘মুক্ত পে’র আলাদা একটি মার্চেন্ট অ্যাপ। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা একটি ড্যাশবোর্ড থেকেই নিবন্ধন, গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ এবং লেনদেনের সকল হিসাব দেখতে পারবেন। এ ছাড়া, ‘মুক্ত পে’তে জাতীয় কিউআর পেমেন্ট সিস্টেম ‘বাংলা কিউআর’ যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটি যুক্ত হলে গ্রাহকেরা বাংলা কিউআর সমর্থিত বিভিন্ন মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে ‘মুক্ত পে’ ব্যবহার করে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।

বাংলালিংকের চিফ ফিনটেক অফিসার দিমিত্রি কাশতানভ বলেন, “‘মুক্ত’ মানে স্বাধীন। আমরা যে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি, তার মূল ভাবনাও সেটিই। এত দিন সংযোগ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ছিলাম আমরা। ‘মুক্ত পে’ র মাধ্যমে এখন আমরা তাঁদের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিদিনের লেনদেন যেন আরও দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য হয়।”

প্রচলিত টেলিযোগাযোগ সেবার বাইরে ডিজিটাল সেবার পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘মুক্ত পে’ চালু করা বাংলালিংকের আরেকটি পদক্ষেপ। ‘মুক্ত পে’ বাংলালিংকের ডিজিটাল সেবা পোর্টফোলিওতে নতুন সংযোজন, যা দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলালিংকের ভূমিকাকে আরও জোরদার করছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বাংলালিংকের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। অন্যদিকে,পাকিস্তান, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান—এই তিন দেশ মিলিয়ে ভিওনের আর্থিক সেবা প্ল্যাটফর্মগুলোর গ্রাহকসংখ্যা ৫ কোটি ৯০ লাখ।

‘মুক্ত পে’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম জাকারিয়া বলেন, “শুরু থেকে আমাদের লক্ষ্য ছিল, প্রথম লেনদেন থেকেই সেবাটি যেন দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য হয়। একই সঙ্গে সকল মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকেরা যাতে এটি ব্যবহার করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে চেয়েছি আমরা।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভিওনের বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গেও ‘মুক্ত পে’ চালুর বিষয়টি যুক্ত। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভিওন।