সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা আবহমান বাংলার হাজার বছরের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক বাহক। এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জনপদের প্রাণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ, চর্চা ও বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শুক্রবার বিকেলে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ডুমুরশিয়া ডিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ১০৬তম লাঠিখেলা উপলক্ষ্যে মেলা ও বিচার গানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী বাউলগান, লোকসংগীত, জীবনমুখী যাত্রাপালা, সার্কাসসহ দেশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রামীণ সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করা এবং এসব চর্চার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, নদীমাতৃক বাংলার প্রাণের উৎসব নৌকাবাইচের মধ্য দিয়ে এ বছর গ্রামীণ জনপদের মানুষের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী উৎসব নতুন মাত্রা পেয়েছে। লাঠিখেলা, নৌকাবাইচসহ গ্রামীণ খেলাধুলা ও উৎসব কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এগুলো আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সামষ্টিক আনন্দের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।

মন্ত্রী স্থানীয় জনগণ, আয়োজক ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। এসব আয়োজন নিয়মিতভাবে চালু রাখতে পারলে গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও নিজস্ব ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মুতাকাব্বীর আহমেদ এবং মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী।

ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মেলায় ক্রীড়াপ্রেমী হাজার হাজার দর্শক ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা উপভোগ করেন। মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মানুষের আবেগ উচ্ছাসে নিজেই লাঠি নিয়ে নেমে পড়েন মাঠে অংশ নেন লাঠি খেলায়।