সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাতগাঁও ইউনিয়নকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাবেক শিক্ষক এস এম ছমরু মিয়া। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শনিবার সকালে এক চায়ের আড্ডায় সাংবাদিকের সঙ্গে আলোচনা কালে এসব কথা তিনি তার নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরে ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মধ্যে।
এস এম ছমরু মিয়া ভাতগাঁও ইউনিয়নের জালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলেন, এই ইউনিয়নেই তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে। ভাতগাঁও ইউনিয়নের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। এলাকার গুণী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের কর্মকাণ্ড তাঁকে জনসেবায় অনুপ্রাণিত করেছেন।
তিনি বলেন, ইউনিয়নের মুরব্বিদের পরামর্শ, যুবসমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা পেলে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব। বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগব্যবস্থা ও বাসস্থানসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।
শিক্ষকতা পেশায় দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ছমরু মিয়া বলেন, ভাতগাঁও ইউনিয়ন শিক্ষার দিক দিয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে তিনি বিশেষভাবে কাজ করতে চান।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ। অথচ ছাতক উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ভাতগাঁও ইউনিয়ন নানা দিক থেকে অবহেলিত। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চান তিনি। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নে সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। পাশাপাশি মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, দুর্নীতি ও সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
তার নিজের রাজনৈতিক পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে দলমত-নির্বিশেষে অনেক মানুষ তাঁকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিলেন। এজন্য তিনি ইউনিয়নবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এবারের নির্বাচন স্বতন্ত্র প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি পুনরায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর প্রত্যাশা, সবার দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে ভাতগাঁও ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এস এম ছমরু মিয়া বর্তমানে অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ উচ্চ বিদ্যালয়, জালিয়ার সভাপতি, ভাতগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এবং ছাতক সমিতি সিলেটের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি জালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি, বর্ণালী সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও ইশাখপুর শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক এবং ভাতগাঁও আইডিয়াল কলেজ উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জনসেবার মাধ্যমে এলাকার মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি ভাতগাঁও ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছে।
গত শুত্রুবার রাতে পৃথক পৃথক নিবাচনী সভা অনুষ্টিত হয়েছে। ছাতারপই জামে সামনে,আনোয়ার খান সভাপতিত্বে আবুল কাশেম কাজল খানের পরিচালনায় অনুষ্টিত সভা বক্তব্য রাখেন,সাদক আলী,ফটিক মিয়া, জিতু মিয়া, ইউসুফ খান, আনচার মিয়া, ফজলু খান, শহিদ খান আবুল ইসলাম, আজাদ মিয়া, ইছন খান শফিক মিয়া, আজাদ খান লেটুখান, গৃহন মিয়া, সুজাত মিয়াসহ আরো ও অনেকে। গত শনিবার দুপুরে শক্তির গাঁও (গবিন্দবাজার)বাবুল মিয়া সভাপতিত্বে, রশিক মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় বক্তব্য রাখেন আব্দুল মন্নান মুক্তি, আব্দুল করির আব্দুল হাকিম আয়না মিয়া, রিপন মিয়া, কুটি মিয়া, রাশিকুল, আবুল কাশেম, সুন্দর আলী ইরন মিয়া, হোসেন আহসৎ, সুজাত মিয়া, সেলু মিয়া- -লিলুমিয়াসহও অনেকেই।