শীত কারো জন্য আনন্দের ও উপভোগের, আবার কারো জন্য কষ্টের। তেমনি সৈয়দপুরের ছিন্নমূল মানুষ যারা দিন এনে দিন খায় তাদের এই শীতে কষ্টের শেষ নেই। প্রচন্ড শীতে গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টেই রাত কাটাতে হয় এসব মানুষদের। রাতে ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা।

সৈয়দপুরে রাতে কুয়াশা আর শীতের তীব্রতায় অনেককেই খোলা আকাশের নিচে, রেলওয়ে ষ্টেশনের যাত্রী ছাউনিতে, বড় দালান ঘেঁষে ঘুমিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। শীতের তীব্রতায় কুকরে গেলেও কেউই দেখছেন না তাদের।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে সৈয়দপুরের রেলওয়ে ষ্টেশন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রেললাইন সংলগ্ন সহ বিভিন্ন জায়গায় এভাবেই ছিন্নমূল অনেক মানুষকে রাত যাপন করতে দেখা যায়। ওইসব ছিন্নমূল মানুষ রাস্তার পাশের ফুটপাতে ও কোনো রকম পুরোনো কাপড় জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। ভবঘুরে, রিকশাচালক এবং ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশায় জড়িত অনেককেই দেখা যায় ওইসব এলাকায়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের যাত্রী ছাউনিতে থাকা রিকশা চালক মোহন কুমার জানান, শহরে সারাদিন রিকশা চালান তিনি। রিক্সা চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে তাঁর। তিনি বলেন, আমি গরীব মানুষ বাড়ি অনেক দুরে তাই রিক্সা চালাতে দেরি হলে রেলওয়ে ষ্টেশনে ঘুমাই।

দিনের বেলায় হালকা গরমে ঘুমানোর কাপড় কোন দোকানে রেখে দেই, রাত হলে আবার সেগুলো নিয়ে ষ্টেশনে ঘুমাই। তিনি বলেন, থাকা ও খাওয়ার কষ্ট সহ্য হয় কিন্তু শীতের কষ্ট সহ্য হয় না।

রেলওয়ে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে একটি রেলওয়ে ভবনের সামনে দেখা যায় বেশ কয়েকজন ঘুমিয়ে আছে। সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ট্রাফিক পুলিশের ছাউনিতে একইভাবে কয়েকজনকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের একজন মজনু মিয়া বলেন, আমরা দিন মজুরের কাজ করে খাই।

আমাদের বাড়ি কুড়িগ্রামে। সৈয়দপুরে আমাদের আত্বীয় স্বজনের বাড়িও নেই। তাই বাদ্য হয়েই শীতে কষ্ট করেও ট্রাফিক পুলিশ ছাউনিতে ঘুমাতে হয়। তিনি বলেন, শুনলাম নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাকি গভীর রাতে কম্বল দিচ্ছেন, আমরাও অপেক্ষায় ছিলাম কম্বল পাবো বলে কিন্তু প্রচন্ড ঠান্ডাতেও আমাদের ভাগ্যে কম্বল জোটেনি।

তিনি আরো বলেন, সৈয়দপুরে অনেক ধনী মানুষ বসবাস করেন কিন্তু গরীব অসহায় মানুষ যে শীতে কষ্ট পাচ্ছে তা কিন্তু কেউই দেখেন না। তাছাড়া আগামীতে এমপির ভোট। এই ভোটে প্রার্থীরা যদি আমাদের মতো শীতে কাতর মানুষদের পাশে দ্বারাতো তাহলে ছিন্নমূল অনেক মানুষ বেঁচে যেতো।

শীতের কষ্ট লাঘবে এমপি প্রার্থী সহ ধনী মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন ছিন্নমূল মানুষরা।

এবিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকমিনা জানান, কয়েকদিন হয় এই উপজেলায় যোগদান করেছি। আশা করছি ৭-৮ দিনের মধ্যে অসহায় মানুষদের শীত নিবারনের জন্য কম্বল বিতরণ করা হবে।