সৈয়দপুর উপজেলায় যেন প্রকৃতি নিজ হাতে এঁকে দিয়েছে এক বিশাল হলুদ বাগানে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে ফুটে থাকা সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহে বদলে গেছে পুরো জনপদের চেহারা। হেমন্তের শিশির ভেজা সকালে সরিষা ফুলের পাঁপড়িতে রোদের ঝিলিক আর বাতাসে ছড়িয়ে পড়া মিষ্টি সৌরভ মুগ্ধ করছে পথচারী থেকে শুরু করে প্রকৃতি প্রেমীদের।
এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য শুধু সৌন্দর্যই নয়, কৃষকদের জন্য বয়ে এনেছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন বার্তা। কম খরচে বেশি লাভের আশায় সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন উপজেলার অধিকাংশ কৃষক।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে যেখানে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল, সেখানে চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩৫০ হেক্টরে। ধান ও গমের তুলনায় কম সময়, কম সেচ ও কম সার ব্যবহারের কারণে সরিষা চাষ এখন কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে।
বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষাবাদ করেছি। খরচ তেমন একটা হয়নি। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে আগের যেকোনো ফসলের চেয়ে এবারে বেশি লাভ হবে।
খাতামধুপুর ইউনিয়নের কৃষক আতিয়ার রহমান জানান,সরিষা চাষে ঝুঁকি কম। পানি লাগে না, রোগবালাই নেই বললেই চলে। ফুল দেখে বোঝা যাচ্ছে ফলন ভালো হবে।
সৈয়দপুর কাশিরাম ইউনিয়নের কৃষক দুলাল চন্দ্র বলেন, ধান কাটার পর জমি এমনিতেই পড়ে থাকত। কিন্তু এখন সরিষা চাষাবাদ করে সেই জমিই আমাদের বাড়তি আয় দিচ্ছে।
সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহ দেখতে সকাল ও বিকেলে ভিড় করছে নানা বয়সী মানুষ। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন ছবি তুলার জন্য। স্থানীয়দের মতে, এই সৌন্দর্য গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভুষণ বলেন, বুধবার (৭ জানুয়ারি) কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার ফলে এবার সরিষা আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবেন এবং তেল উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহে এখন সৈয়দপুরের মাঠ-ঘাট যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস। সৌন্দর্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও এনে দিচ্ছে এই সরিষা চাষ, যা কৃষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী করে তুলছে।
অর্থনীতি ও প্রকৃতির মেলবন্ধন সরিষা চাষ বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকের জীবনযাত্রায় আসছে স্বচ্ছলতা। হলুদ ফুলে মোড়া সৈয়দপুরের মাঠ এখন শুধু চোখ জুড়ানো দৃশ্য নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির সম্ভাবনাময় এক জীবন্ত গল্প।