গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত হয়েছেন গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শকসহ সাত কর্মকর্মকর্তা। হামলা চালিয়ে তাদের কাছ থেকে হ্যান্ডকাপসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা।
এ ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও সোমবার পর্যন্ত হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ীদের আটক ও হ্যান্ডকাপটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এলাকাবাসী, পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন মাদকের ব্যাপক বিস্তার সৃষ্টি হয়েছে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন শিশু শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। ফলে এখানে বাড়ছে নানা ধরণের অপরাধ প্রবণতা।
আর মাদকের ব্যাপক বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বিভিন্ন সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা চালিয়ে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীদের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় রবিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপজেলার টানকালিয়াকৈর মোল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চালিয়ে মাদকসহ হাবিব নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে তার হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে গাড়িতে তুলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। খবর পেয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় তার সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা। হামলা চালিয়ে তারা ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয়। মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ
অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, এসআই বাকের, এসআই আরিফসহ সাত কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন। খবর পেয়ে এশিয়ান টিভির অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান (অপরাধের খোঁজ) এর প্রতিনিধিরা সেখানে যান। কিন্তু এই হামলার দৃশ্যের ভিডিও, ছবি ধারণ করতে এশিয়ান টিভির ক্যামেরাম্যান রুবেল হোসেনের ওপর চড়াও হয় মাদক ব্যবসায়ীরা। এক পর্যায় তারা ওই টিভির ক্যামেরাম্যানের ওপরেও হামলা চালায়।
এসময় তার হাতে থাকা ক্যামেরাটি ভেঙ্গে ফেলে এবং তার ব্যবহারকিত এশিয়ান টিভির স্টিকার যুক্ত মোটরসাইকেলটি ভাংচুরসহ জিম্মি করে রাখে মাদক ব্যবসায়ীরা। পরে খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাত কর্মকর্তা ও এশিয়ান টিভির ক্যামেরাম্যানকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আহত সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ওই ঘটনার একদিন সোমবার পেরিয়ে গেলেও ওই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক ও তার কাছে থাকা হ্যান্ডকাপটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ঘটনায় হতাশগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
আহত গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগাই। তাকে আটক করে যখন গাড়িতে উঠাতে যাবো, তখন সে চিল্লাপাল্লা করলে সেখানে ছুটে আসে তার মাদক সিন্ডিকেট সদস্যরা। তারা হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপসহ ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয়। তাদের হামলায় আমিসহ সাতজন আহত হয়েছি। তবে এখনো ওই মাদক ব্যবসায়ীদের আটক ও হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা যায়নি।
এব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বাদী হয়ে থানা একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে ওই হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার ও হ্যান্ডকাপটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।