তানোরে আলুর বস্তা সিন্ডিকেট সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়তি দাম

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
তানোরে আলুর বস্তা সিন্ডিকেট সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়তি দাম

কৃষকের রক্ত ঘামের ও অধিক ঝুকিপূর্ণ চাষাবাদ হচ্ছে আলু। আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। হিমাগারে বা মোকামে নিতে হলে বস্তার প্রয়োজন। গত সপ্তাহে স্বাভাবিক দাম ছিল বস্তার। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা আবার নানা অজুহাতে ৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন বস্তা ক্রেতা আলু চাষীরা।

রাজশাহীর তানোরে সপ্তাহ ধরে বস্তা নিয়ে রমরমা সিন্ডিকেট করে বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে। বাজার মনিটরিং না থাকার কারনে ইচ্ছে মত দাম নেয়া শুরু করেছেন বস্তা ব্যবসায়ীরা। দেশে গনতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু বাজার সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। ফলে সব কিছু চলছে খেয়াল খুশী মত। একারনে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন কৃষকরা।

বস্তা কিনে বাড়িতে যাচ্ছিলেন এন্তাজ নামের এক কৃষক। তিনি জানান গত কয়েক দিন আগে বস্তার দাম ছিল ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে। কিন্তু হঠাৎ করে সিন্ডিকেট বস্তার দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ১৩০ টাকা থেকে ১৩৫ বা ১৪০ টাকা করেও নিতে হচ্ছে বস্তা। আলু উঠার সাথে সাথে বস্তা সিন্ডিকেট শুরু করেছেন অসাধু ব্যবসয়াীরা। দেশে তো বস্তার ঘাটতি নেই তাহলে বস্তার দাম কেন বেশি হবে।

দেশ গনতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। তাহলে কি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বা কৃষকদের ফুঁসে তুলতেই কি বয়ন্বসায়ীরা বস্তার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আর উপজেলা প্রশাসনে থানা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিদপ্তরের কোন বাজার মনিটরিং নাই। নিয়মিত বাজার মনিটরিং থাকলে বস্তার দাম বাড়ত না। এমনিতে আলু চাষ করে কৃষকরা পথে বসে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেনা। আর বস্তার দাম বাড়িয়ে কৃষকের পকেট খালি করছে।

আরেক আলু চাষী মনির জানান, বছরের প্রথম দিকে বস্তার দাম ছিল ৭৮ টাকা থেকে ৮২ টাকার মত। দিনের দিন পাচ দশ টাকা করে বেড়েই চলেছে বস্তার দাম।

আলু চাষীরা জানান, বস্তা নিয়ে ক্ষুদ্র মাঝারি ও হিমাগারেরা শুরু করেছেন সিন্ডিকেট। এউপজেলায় পুরোদমে আলু তুলা শুরু হয়েছে। আলু তুলার জন্য বস্তার পর্যাপ্ত প্রয়োজন। বিগত মৌসুমে বস্তা নিয়ে এমন সিন্ডিকেট হয়নি। কিন্তু এবারে নতুন রুপে শুরু হয়েছে বস্তা সিন্ডিকেট। আলু উত্তোলনের পরে দাম ছিল সাড়ে ৯ টাকা করে। পরে দাম উঠে সাড়ে ১৩ টাকা থেকে ১৪ টাকা কেজি। কিন্তু গত দুই তিন দিনে সাড়ে ১১ টাকা কেজি থেকে ১২ টাকা কেজিতে নেমে গেছে। আলুর দাম প্রতি নিয়তই উঠানামা করছে।

এদাম নির্ধারণ করে ফড়িয়া মৌসুমি ও হিমাগার এসোসিয়েশন। অথচ দাম নির্ধারণ করবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। কিন্তু তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। দেশে নতুন সরকার। ভোটের আগে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যা্য্য দাম পাইয়ে দেয়া, কোন ভাবেই যাতে কৃষক লোকসানের মুখে না পড়ে একারনে নিয়োমিত তদারকি সহ ইত্যাদি ইত্যাদি কথা বলা হলেও কোন প্রতিকার নাই।

আলু চাষীরা চরম লোকসান গুনলেও কৃষি বিপণন বিভাগ বা সরকারের কোন নজরদারি নেই। আবার ট্যাক্টর দিয়ে আলু তোলা হয়। কিন্তু বিশ্ব মোড়লদের যুদ্ধের কারনে তেলের বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে। প্রয়োজনমত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যুদ্ধ চলছে মধ্য প্রাচ্যে আর তেলের সিন্ডিকেট চলছে এখানে। খুচরা দোকানীরা তেল মজুদ করে দোকান বন্ধ করে ঘুরছেন। অথচ প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই।কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা নতুন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং চাষীদের ফুঁসিয়ে তুলতে নানাভাবে তৎপরতা শুরু করেছেন।

সিন্ডিকেট করে বস্তার দাম বাড়লেও একই সিন্ডিকেটে আলুর দাম কমতেই আছে। পাচ্ছে না উৎপাদন খরচ। এমন একটা অবস্থা আলু চাষ করে যেন অভিশাপ কুড়িয়ে আনা। কিন্তু কৃষক উৎপাদন করছে বলেই এত অল্প পরিমান দামে ভোক্তারা খেতে পাচ্ছে। যদি উৎপাদন না হত তাহলে বাড়তি দামে কিনে খেতে হত ভোক্তাদের।

আবার ৫০ কেজির বস্তায় আলু রাখতে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও ৭০ কেজি থেকে ঊর্ধ্বে ৭৫ কেজির বস্তা দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। এসব নিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কোনই নজরদারি নেই। নজরদারি না থাকার কারনে সিন্ডিকেট চক্ররা বেপরোয়া সিন্ডিকেট করেই চলেছেন। নিয়োমিত অভিযান পরিচালনা হলে এত বেপরোয়া হত না সিন্ডিকেট চক্র।

এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাঈমা খাঁনের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। যার কারনে এসংক্রান্ত কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Ads