১৫০০ সিসি গাড়ির উচ্চহারে কর পরিশোধে অনীহা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

আমিনুল আমিন ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ২:০৮ পূর্বাহ্ণ
১৫০০ সিসি গাড়ির উচ্চহারে কর পরিশোধে অনীহা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ব্ল্যাকমানি রোজগারের আয়ের উৎস ছিলো। শূধুমাত্র ওবায়দুল কাদেরের ব্যক্তিগত দুর্নীতি আর কালো আইন করে সাধারণ জনগনের পকেট কেটে নিজের অবস্থান তৈরীতে ব্যস্ত ছিলেন।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সরকারের আমলে কালো আইনে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার ১৫০০ সিসি গাড়ীর কর ১৫,০০০ হাজার টাকা থেকে কর বৃদ্ধি করে আকাশ ছোঁয়া ২৫,০০০ হাজার টাকা র্ধায়্য করে মধ্যবিত্ত পরিবারকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন।

এতকরে সাধারণ মানুষের ভিতরে অত্যন্ত চাপা ক্ষোভ রয়েছে ১৫০০ সিসি-র ব্যক্তিগত গাড়ির অগ্রিম কর (Advance Income Tax বা AIT) ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করা সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর ওপর বিশাল একটি আর্থিক বোঝা তৈরি করেছে রীতিমত এই অগ্রিম কর ১৫০০ সিসি ব্যক্তিগত গাড়ির কর আকাশ ছোঁয়া ২৫ হাজার টাকা করায় সাধারণ মানুষের পরিষোধ করা অত্যন্ত কষ্টদায়ক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সরকারের সিদ্ধান্তে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে তৎকালীন ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর পরিবেশ সারচার্জ এবং উচ্চহারে অগ্রিম কর আরোপ করে ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির কর এক লাফেই ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

যা আয়ের ওপর প্রভাব পরে, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর মতো যারা একটি গাড়ি দিয়ে পরিবারের খরচ মেটান বা যাতায়াত করেন, তাদের জন্য বছরে এককালীন ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলেও রাজস্ব নীতি বা বিআরটিএ-র ট্যাক্স কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি ফলে আগের সরকারের করা নিয়মগুলোই এখনো বলবৎ আছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এনবিআর (NBR) এবং বিআরটিএ-তে বিভিন্ন সংস্কারের কথা বললেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খসড়া পরিকল্পনাগুলোতে এখনো ১৫০০ সিসি-র কর কমানোর কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।

দুর্নীতি ও অনিয়মে বিআরটিএ-র সেবার মান এবং ঘুষ-দুর্নীতি, দালাল নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে, যা সাধারণ জনগন ভোগ করছে, সংস্কারের দাবি উঠলেও তৃণমূল পর্যায়ে এর সুফল এখনো সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না, ১৫০০ সিসি-র ব্যক্তিগত গাড়ির বাৎসরিক কর আকাশছোঁয়া হওয়ার কারণে দেশজুড়ে সাধারণ মালিকদের মধ্যে কর প্রদানে এক ধরনের অনিহা বা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

উচ্চ করের প্রভাবে বর্তমানে যে পরিস্থিতিগুলো পরিলক্ষিত হচ্ছে তা হলো বাৎসরিক খরচের বিশাল বোঝা একজন মালিককে বছরে শুধু অগ্রিম আয়কর (AIT) হিসেবে দিতে হচ্ছে ২৫,০০০ টাকা এর সাথে ট্যাক্স টোকেন (১৫,০০০–২০,০০০ টাকা) এবং ফিটনেস নবায়ন ফি যুক্ত করলে প্রতি বছর একটি গাড়ি বৈধ রাখতে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই বিশাল অংক জোগাড় করা অনেক সময়ই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে এবং খেলাপি হওয়ার প্রবণতা ও জরিমানা দিন দিন বাড়ছে এত করে অনেক মালিক সময়মতো কর দিতে না পেরে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ডিফল্টার’ বা খেলাপি হয়ে পড়ছেন এবং বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে বড় অংকের জরিমানা যোগ হওয়ায় কর পরিশোধের অনিহা আরও বেড়েই চলছে এরসাথে রাষ্ট্রের রাজস্ব কমে যাচ্ছে।

বিআরটিএ মাঝেমধ্যে জরিমানার ওপর ছাড় (Waiver) দিলেও মূল করের পরিমাণ বেশি থাকায় তা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দিচ্ছে না। তখন মালিকানা হস্তান্তরে গাড়ির পেপারস আপডেট না থাকায় অনেক মালিক গাড়ি বিক্রিও করতে পারছেন না, কারণ বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধ না করে মালিকানা পরিবর্তন সম্ভব হয় না এতে মধ্যবিত্তের সম্পদটি অবিক্রীত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান নতুন সরকার আসার পরেও বিআরটিএর কালো আইন পরিবর্তনের কোন লক্ষন চোখে পরছে না এবং তা একই নিয়মে চলছে।

একারনেই দেশের সাধারণ জনগন বর্তমান সরকার বিআরটিএর এই কালো আইন সংস্কার উদ্যোগের প্রত্যাশায় অধীর আগ্রহে আছেন। বিশেষ করে ১০ বছরের পুরাতন ব্যক্তিগত গাড়ীর ক্ষেত্রে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

যদিও কর কাঠামো সহজ করা এবং ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তবে সরাসরি করের হার না কমলে মধ্যবিত্তের স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।

Ads