যশোরে তুচ্ছ ঘটনায় সালিশের মাধ্যমে পুলিশের উপস্থিতিতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ব্যবসায়ীর

নজরুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি (যশোর)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
যশোরে তুচ্ছ ঘটনায় সালিশের মাধ্যমে পুলিশের উপস্থিতিতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ব্যবসায়ীর

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে মব সৃষ্টি করে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বাগআঁচড়া নাভারণ ও বেনাপোল মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় এই টাকা আদায় করা হয়।

ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগআঁচড়া (বাগুড়ী) ফুলতলা পট্টির রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী জহিরুজ্জামানের দোকানের বালু রাখার স্থানে গত শুক্রবার এক ট্রাকের হেলপার প্রস্রাব করেন। এ নিয়ে ব্যবসায়ী জহিরুজ্জামান বিষয়টি জানতে চাইলে হেলপারের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ব্যবসায়ীর হাতে থাকা রড দিয়ে হেলপারকে আঘাত করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

ঘটনার পর স্থানীয় মটর শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাক আড় করে দিয়ে মানুষকে জিম্মি করে সড়ক অবরোধ করে। এতে এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হলে বাগআঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই গোরাচাঁদ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করেন।

এরপর ঘটনার জের ধরে বাগআঁচড়া নাভারণ ও বেনাপোল পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে শ্রমিক ভবনে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসআই গোরাচাঁদের উপস্থিতিতে ওই সালিশে ব্যবসায়ী জহিরুজ্জামানের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জহিরুজ্জামান জানান, ‘আমাকে শ্রমিক অফিসে ডেকে চাপ প্রয়োগ করে আমার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা আজিজুর রহমান বাবু জানান, ‘৭০ হাজার টাকা জরিমানা কম হয়ে গেছে, আরও বেশি জরিমানা করা উচিত ছিল।এ বিষয়ে বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই গোরাচাঁদ বিশ্বাস বলেন, ‘সালিশ বৈঠকে আমি প্রথম থেকে উপস্থিত ছিলাম না। সালিশের শেষ মুহূর্তে আমি সেখানে যাই, গিয়ে দেখি মীমাংসা হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। শ্রমিক নেতাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভালো বলতে পারবেন।

শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, ‘মটর শ্রমিকরা হেলপারের মারধরের ঘটনায় রাস্তা অবরোধ করেছিল। এসআই গোরাচাঁদ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে কোনো সালিশ বৈঠকে বা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads