রৌমারীতে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে ৫ দিন ধরে অনশন স্ত্রীর, বিচার প্রতারণায় পরিবার

মাজহারুল ইসলাম, রৌমারী প্রতিনিধি(কুড়িগ্রাম) ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
রৌমারীতে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে ৫ দিন ধরে অনশন স্ত্রীর, বিচার প্রতারণায় পরিবার

প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেও ঘর বাঁধতে পারছে না এক তরুনী। স্ত্রী স্বীকৃতির দাবীতে ৫ দিন ধরে স্বামীর বাড়িতে অনশন। বিচার প্রতারণায় পরিবার। স্বামী শ^শুর ও পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অনশন তরুনী। স্থানীয় ইউপি সদস্য বিচার ব্যবস্থা করলে সু-কৌশলী কুদ্দুসের প্রতারণায় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। অভিযোগকারী আরিফা খাতুন (১৮) রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের কাজাইকাটা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আশরাফ আলী। অভিযুক্ত নাইমুল হাসান খান (২১) একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস খাঁনের ছেলে।

অভিযোগে জানা যায়, গত ৩১ আগষ্ট ২০২৬ কুড়িগ্রাম সদর কাজী আজিজুল হোসেনের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ৪ লক্ষ টাকা মোহরানা ধার্য্য করে রেজিষ্ট্রি বিবাহ হয়। বিয়ের পর চাকুরির কথা বলে ঢাকা গিয়ে বাসা ভাড়ায় ঘর সংসার করেন স্বামী নাইমুল হাসান। দুই মাস পর এই বিয়ে নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন শশুরসহ পরিবার। স্বামীর স্বীকৃতি ও নিজের নিরাপত্তার দাবিতে শশুর বাড়ি উপজেলা রৌমারীর চরশৌলমারী ইউনিয়নের কাজাইকাটা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস খাঁনের বাড়িতে ৫ দিন অনশনে রয়েছেন।

আরিফার পরিবার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মমিন উদ্দিন ও এলাকার লোকজন আব্দুল কুদ্দুসের বাড়িতে যান। পরে স্থানীয় মেম্বার মিমাংসার লক্ষে তারিখ নির্ধারণ করেন। বিচার তারিখ মোতাবেক কুদ্দুস ও পরিবার বিভিন্ন প্রতারণা মুলকভাবে বিচার প্রত্যাখান করেন। আরিফার পরিবার কোন উপায় না পেয়ে রৌমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

উল্লেখ্য যে, গত দুই বছর আগে বন্দবেড় ইউনিয়নের টাপুরচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলামের সাথে রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে বিবাহ হয়। এমতাবস্থায় নাইমুল হাসানের সাথে পরিচয় হলে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে ও বিবাহ করার উদ্দেশ্যে স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটায়। গত ৩১ আগষ্ট তার সাথে প্রথমে কোটের মাধ্যমে এফিডেভিড হয়। পরে কুড়িগ্রাম সদর কাজি আজিজুলের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি এবং বিবাহ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মৌলানা জমির উদ্দিন, শাহজাহান, শহিদুল ইসলামসহ উপস্থিত অনেকেই বলেন, কাগজপত্র যাছাই করে দেখা যায় তাদের উভয়ের মধ্যে রেজিষ্ট্রি ও শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়েছে। ছেলের পরিবার ওই বিবাহ না মানায় মেয়ে তার স্বামীর স্বীকৃতির দাবীতে ৫ দিন থেকে এই বাড়িতে অনশনে রয়েছে। সেই লক্ষে আজ আমরা সিদ্বান্ত নিলাম আগামী ৩ দিনের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ৩ দিন পর মঙ্গলবার তাদের বিবাহের কলহ নিস্পত্তি করার লক্ষে, মেয়েকে তার বাবার হেফাজতে রাখা হয়। বৈঠকের দিন উভয় পক্ষ ছেলে ও মেয়েকে হাজির করবে। কিন্তু আব্দুল কুদ্দুস খাঁন, না বসে বিভিন্ন প্রতারনা মূলক টালবাহানা করছেন।

 

Ads