যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামী অনিয়মিত ইউপি চেয়ারম্যান,কার্যক্রমে ভাটায় জনদুর্ভোগ

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামী অনিয়মিত ইউপি চেয়ারম্যান,কার্যক্রমে ভাটায় জনদুর্ভোগ

আওয়ামী সরকার পতনের পর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গা ঢাকা দিয়েছেন হত্যা মামলার আসামী আওয়ামী লীগের নেতাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অথচ যুবলীগের সভাপতি ও তিনটি হত্যা মামলার আসামী অনিয়মিত এক ইউপি চেয়ারম্যান অদৃশ্য ক্ষমতাবলে এখনো স্বপদে বহাল। তার ইচ্ছামতো প্রকল্পের সভাপতি বানানোসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে পরিষদের কার্যক্রমে ভাটা পড়ায় জনদুর্ভোগ যেন চরমে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার গ্রহনের দাবী ইউনিয়নবাসীর।

এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ইউপি নির্বাচনে কালিয়াকৈর উপজেলার প্রায় ৯টিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় তারা আওয়ামীলীগের মনোনিত ও একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। কিন্তু জুলাই ছাত্র আন্দোলনে সরকার পতন ও আন্দোলনকারী হত্যাকান্ডে মামলার আসামী হওয়ার পর গা ঢাকা দেন প্রায় সকল ইউপি চেয়ারম্যান। এতে স্থবির হয়ে পড়ে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রম। পরে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৬টিতে প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর। অদৃশ্য কারণে বাকী তিনটিতে ইউপি চেয়ারম্যান বহাল রাখা হয়। এর মধ্যে আটাবহ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা তিনটি হত্যা মামলার আসামী।

তিনি গা-ঢাকা থাকা অবস্থায় মাত্র ৪৫ দিনের জন্য অস্থায়ী জামিনে আসেন। কিন্তু জামিনের ওই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে তিনি আবার গা ঢাকা দেন। মাঝে মধ্যে পরিষদে এলেও কিছুক্ষণ অফিসে থেকে তড়িগড়ি করে আবার গা ঢাকা দেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল। এ সুযোগে পরিষদ থেকে তার বাড়ি বা গা ঢাকাস্থলে গোপন সরকারী বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে যান ও স্বাক্ষর করে নিয়ে আসেন বাবু নামে চেয়ারম্যানের এক শ্যালক। যার কারণে পরিষদের

এসব নথিপত্র গোপন তথ্য বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ইউপি সদস্যরাসহ অনেকেই। এসব কারণে ওই পরিষদের কার্যক্রমে ভাটা পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে। বিশেষ করে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশিয়ান সনদ জরুরী সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষ। উধাও হয়ে গেছে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ৭৮ লক্ষ টাকা ও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্ধের বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইলও।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ইচ্ছামতো প্রকল্পের সভাপতি বানানো, কিছু প্রকল্প শেষ না করেই টাকা তুলে পকেটে ভরা, ইউপি সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি যেন জিম্মি দশায় রেখেছেন পরিষদটি। এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত ও মৌখিক একাধিক অভিযোগ দিয়েছেন একাধিক ইউপি সদস্যসহ ভুক্তভোগী লোকজন।

এদিকে সব ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদ চলে গেলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ওই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামী হয়েও ইউপিতে স্বপদে বহাল। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক ইউপি সদস্যসহ ভুক্তভোগী লোকজন। তবে অনিয়ম-দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগ রোধে তদন্ত সাপেক্ষে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পরিষদে প্রাণ ফেরানোর দাবী জানিয়েছেন ইউনিয়নবাসী।

সরকারী গোপন নথিপত্র বহনের বিষয়টি অস্বীকার করে ওই চেয়ারম্যানের শ্যালক বাবু জানান, আর ফাইল বহন করবো কেন? আমি মাঝে মধ্যে ভাই (চেয়ারম্যান) নিয়ে গেলে আমি যাই। কিন্তু দেখা করে চলে আসি।

ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল হক জানান, আমাদের চেয়ারম্যানের নামে হত্যা মামলা থাকায় তিনি অনেক দিন যাবত নিয়মিত অফিস করেন না। বিভিন্ন সময় তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়াও কাজ না করেই টাকা তুলেছেন তিনি। এসব কারণে পরিষদের কার্যক্রমে ভাটা চলছে।

অপরদিকে চেয়ারম্যানের শ্যালক সরকারী নথিপত্র বহন করতে পারেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই পরিষদের সচিব নজরুল ইসলাম জানান, তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত নন। কিন্তু তিনি মাঝে মধ্যে নথিপত্র নিয়ে যান। আর আমি এখানে নতুন এসে পরিষদে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বরাদ্ধের ফাইল পাইনি।

অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করে আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা জানান, এসব অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন। আমার নামে তিনটি হত্যা মামলা থাকলেও আমি জামিনে আছি। আর নিয়মিত অফিস এবং দায়িত্ব পালন করছি। আর প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দু-একবার বাবু ফাইল নিতে পারেন।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, এসব বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। এছাড়াও প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে সত্যতা পেলে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে সরকারী নথিপত্র অন্যকারো বহন করার সুযোগ নেই।
এমন হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ads