সৈয়দপুরে গুড় ও নিম্নমানের খেজুর বিক্রি

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে গুড় ও নিম্নমানের খেজুর বিক্রি

নীলফামারীর সৈয়দপুর বানিজ্যিক শহর হিসেবে খ্যাত। এরফলে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়িরা সৈয়দপুরে আসেন তাদের পছন্দের পণ্য কেনার জন্য। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুরু হয়েছে কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল গুড় ও নিম্নমানের খেজুর বিক্রি। ২৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকালে শহরের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। রমজান মাসকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতাসাধারন।

সৈয়দপুর পৌর এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাকসুদ আলম বলেন, বাজারে যে গুড় বিক্রি হচ্ছে সেটির বেশির ভাগ চিনি মিশ্রিত। আর রং অস্বাভাবিক উজ্জ্বল, সেখানে গুরের স্বাদ নেই। সন্দেহ হয় গুড় গুলো কেমিক্যাল মিশ্রিত। খেজুরের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বাইরে সুন্দর ও চকচকে দেখালেও ভেতরটা নিম্নমানের ও তিতকুটে।

শহরের রাবেয়া ফ্লাওয়ার মিল এলাকার বাসিন্দা মিষ্টার বলেন, রমজান মাসে গুড় ও খেজুরের চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল পণ্য বাজারজাত করছেন। বর্তমান সরকার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে রমজান মাসের পণ্য মজুতদার ও ভেজাল খাদ্য সামগ্রী বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিলেও অসাধু ব্যবসায়িরা ওই নির্দেশের তোয়াক্কাই করছেন না।

আমদানি কারকরা মেয়াদোত্তীর্ন দুর্গন্ধ যুক্ত খেজুর ঠান্ডা ঘরে রেখে সেগুলোর বস্তা পরিবর্তন করে বাজারজাত করছেন। এরফলে ক্রেতাসাধারন ওইসব খেয়ে পেটের নানান রোগে আক্রান্ত হলেও আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়িরা। ভেজাল ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দপুর শহরের একাধিক খুচরা ফল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাইকারি বাজার থেকে প্রায় সময় নিম্নমানের খেজুর আসে। গতবারের তুলনায় আমদানি কারকরা, এবারে খেজুরের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। একদিকে খেজুর নিম্ন মানের অন্য দিকে দাম ও বেশি। প্রসাশনকে ম্যানেজ করে তারা গলাকাটা ব্যবসা করলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে কোন ধরনের মনিটরিং করা হয় না। তারা বলেন ক্রেতা যাতে প্রতারনার শিকার না হয় এজন্য আমরা ভালো মানের খেজুর রাখার চেষ্টা করছি বলে দাবি করেন তাঁরা।

সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক,গণমাধ্যমকর্মী এম আর আলম ঝন্টু বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। নিম্ন মানের খাদ্য বিক্রেরা আংগুল ফুলে কলাগাছ হলেও প্রতারনার শিকার হচ্ছেন ক্রেতা সাধারন। এদের দমন করতে বাজারে নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা খুব জরুরি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা বলেন, ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের সময় প্রমাণ মিললেই তৎক্ষনাৎ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একারনে বাজারে তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Ads