এক তরফা তদন্ত প্রতিবেদন নিতে মরিয়া

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
এক তরফা তদন্ত প্রতিবেদন নিতে মরিয়া

রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ঐতিহ্য বাহী তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ দিতে এক তরফা তদন্ত প্রতিবেদন নিতে মরিয়া হয়ে প্রশাসনকে চাপ দেয়া শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে কয়েক দফা নিয়োগ বোর্ডের দিন ধার্য হলেও লবিং গ্রুপিংয়ের কারন ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়ার কারনে হয়নি নিয়োগ বোর্ড।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে উপজেলা কৃষি অফিসে অভিযোগের তদন্তের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কলেজ ছুটি থাকার কারনে অফিসে না সরেজমিনে কলেজে তদন্তের দাবি জানিয়ে ইউএনওর দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন অভিযোগ কারী তালন্দ গ্রামের বাসিন্দা ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক ছাত্র দলের নেতা আব্দুস সালাম। আবেদন দিলেও বাদিকে ছাড়াই কৃষি অফিসে বিবাদীদের নিয়ে ঘন্টা ব্যাপী তদন্তের শোনানি করেন বলে অভিযোগ সালামের।

এছাড়াও তদন্তের আগেই কলেজ শিক্ষক কবির হোসেন সহ অভিযোগ কারী সালামের উপর মারমুখী ও মব সৃষ্টি করেন শিক্ষক তালন্দ কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি ও চাপড়া মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সাজ্জাদ সহ তার লোকজন। তদন্তের আগেই বিএনপি নেতা সাজ্জাদের মব সৃষ্টির বিষয় টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং কলেজ শিক্ষক কবির, মুখলেস ও বাদী সালামকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়।

যার কারনে তারা অফিসে তদন্ত না মেনে চলে আসেন। এর ফাঁকে কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ ও উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার এক তরফা তদন্ত করেন বলে দাবি সালামের । যা আগামী রবিবার প্রকাশ করা হবে। এদিকে নিয়োগ বোর্ড সাময়িক বন্ধ ও পরবর্তী তে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে আদালতের দারস্থ হবেন বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, নিয়োগ বোর্ডের আগেই প্রায় কোটি টাকা লেনদেন এবং প্রার্থী সিলেকশন ও জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পছন্দের ব্যক্তিকে কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ হিসেবে পদায়নসহ গভর্নিং বডির সভাপতি, অধ্যাক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেতে শিক্ষক ওমর আলীর নানা প্রলোভনের মাধ্যমে কলেজে এক বিশাল সিন্ডিকেট চক্র তৈরি করা হয়েছে। এসব কারনে শিক্ষক দের মধ্যে কয়েকটি গ্রুপিং বিবাদ মান।

যার কারনে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়ে পড়েছে। ভোটের আগে গভর্নিং বডির সভাপতি ওই কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ সেলিম উদ্দিন কবিরাজ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ নজরুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন, ও ওমর আলী দুই দফা নিয়োগ বোর্ড করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

এদিকে নিয়োগের আগেই কোটি টাকার লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে মরিয়া সিন্ডিকেট চক্র মর্মে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহীর দপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরে ১১/১/২০২৬ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ দেন তালন্দ গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ছাত্র দলের নেতা শিক্ষক আব্দুস সালাম। বন্ধ হয়ে যায় নিয়োগ বোর্ড। একাধিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও, কৃষি অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলী কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বুধবার তদন্তের জন্য অভিযোগ কারী সালাম কে নোটিশ করা হয়। নোটিশে বলা হয় ২৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার কৃষি অফিসে তদন্ত শোনানি হবে মর্মে যাবতীয় তথ্য প্রমানাদি আনতে হবে।

আব্দুস সালাম জানান, তদন্তের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কৃষি অফিসে যায়। অফিসারকে আবেদন দিব এই বলে যে অফিসে বসে তদন্ত না কলেজে সরেজমিনে তদন্ত করার অনুরোধ করার জন্য।

কিন্তু কৃষি অফিসার আবেদন গ্রহণ না করে তিনি ইউএনওর কাছে আবেদন দেয়ার পরামর্শ দেন। সে মোতাবেক আবেদন করে কৃষি অফিসের সামনে আসা মাত্রই কলেজ শিক্ষক কবির হোসেন কে মারতে তেড়ে আসে সাজ্জাদ সহ তার লোকজনরা।

ধাক্কা দিয়ে কবিরকে দেখে নেয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয় সাজ্জাদ। শুধু কবিরকে না আরেক শিক্ষক মুকলেস ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ সাবিহা সুলতানাকেও হুমকি দেয়।

একারনে আমরা তদন্তের জন্য আবেদন করি। আমরা চলে আসার পর কৃষি অফিসে গভর্নিং বডির সভাপতি সেলিম উদ্দিন কবিরাজ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ নজরুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন,সহ কিছু স্থানীয় ব্যক্তিরা ঘন্টা ব্যাপী অবস্থান করছিল।

সুত্র জানায়, নিয়োগ বোর্ড করতে গভর্নিং বডির সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ ও শিক্ষক প্রতিনিধি সাজ্জাদ মরিয়া হয়ে পড়েছে। তারা নিয়োগের আগেই প্রার্থী সিলেকশন করেছে। আর প্রার্থী সিলেকশন তো শুধু শুধু হয়না।

এনিয়োগ দেয়ার কারনে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কিছু ব্যক্তিরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নিয়েগ হবে মেধার ভিত্তিতে। তাহলে এদের কেন এত মাথা ব্যথা। মাথা ব্যথার কারনও আছে। কারন লেনদেন হয়ে গেছে, নিয়োগ দিতে না পারলে সবার অবস্থা খারাপ হবে। আগের সার্কুলারে বা বিজ্ঞপ্তি তে নিয়োগ হলে কলেজে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হবে।

নিয়োগের আগেই শিক্ষক সহ স্থানীয়দোর মাঝে গ্রুপিং লবিংয়ের শেষ নেই। সুতরাং নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে পুনরায় সার্কুলার দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারলে কলেজের গৌরব ফিরে আসতে পারে। আর এভাবে নিয়োগ দিলে কলেজের সব কিছু অতীতের মত ধ্বংস হয়ে যাবে। নব নির্বাচিত এমপির কাছে কলেজের শিক্ষকদের দাবি কোন সিলেকশনে নিয়োগ না একেবারে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কারন কলেজের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মেধার কোন বিকল্প নেই। গভর্নিং বডির সভাপতি তার স্বজনকে নিয়োগ দিতে মরিয়া, সাজ্জাদ তার পছন্দের প্রার্থী কে নিয়োগ দিতে উঠেপড়ে লেগেছে, ওমর আলী অধ্যাক্ষ পদে নিয়োগ নিতে যাযা করনীয় করছেন, আর কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের স্বজনদের চাকুরী দিতে একাট্টা সবাই।

এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জানান, গভর্নিং বডির সভাপতি সেলিম উদ্দিন কবিরাজ বিগত আ”লীগ সরকারের সময় পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাক্ষরে চাপড়া মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হয়েছিলেন।

ওই সময় তাকে নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আবার তার মত বিতর্কিত ব্যক্তিকে সভাপতি করা সঠিক হয়নি। তিনি সভাপতি না হলে নিয়োগ নিয়ে এত জটিলতা সৃষ্টি হত না। আবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ হিসেবে সাবিহা সুলতানা কে দায়িত্ব দেয়া হল। তিনি নিয়ম মত কলেজ পরিচালনা করে আসছিল।

নিয়োগ সিন্ডিকেট চক্রের কাছে মাতা নত না করার কারনে কোন কারন ছাড়াই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। তার জায়গায় নিয়োগ চক্রের নত নজরুল দায়িত্ব দেয়া হয়। এই নজরুল সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীর প্রায় সভায় উপস্থাপনার দায়িত্বে থাকতেন।

এক তরফা তদন্তের বিষয়ে জানতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ কে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। আরেক তদন্ত কারী উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার কে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করে জানান, আগামী রবিবার উভয় পক্ষকে নিয়ে শোনানি করা হবে।

শুক্রবার বিকেলের দিকে পুনরায় তদন্ত কারী কর্মকর্তা কৃষি অফিসার কে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাঈমা খাঁনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডিসি স্যারের সাথে কথা বলে আগামী মাসের ৪/৫ তারিখে তদন্তের শোনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। কলেজ বন্ধ একারনে বাদি কলেজ খুললে তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, কলেজ ছুটি থাকলেও প্রশাসনিক কাজ চলমান রয়েছে। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী মাসে দিন ধার্য করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবারে বাদীকে ছাড়াই নাকি এক তরফা তদন্ত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান এক তরফা তদন্তের কোন সুযোগ নেই। তদন্তের আগেই অফিসের সামনে এক ধরনের মব সৃষ্টি হয়েছে একারনে বাদীরা চলে গেছে জানতে চাইলে ইউএনও জানান এসব কারনেই তো সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আগামীতেও যদি তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদর্ী বিবাদীদের কোন সমস্যা থাকে তাহলে পুনরায় বিবেচনা করা হবে। তবে তদন্ত কাজ তো শেষ করতে হবে, ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।

Ads