Guitarist’s Community of Dhaka ইফতার মাহফিল এর মধ্যে দিয়ে পথ চলা

আমিনুল আমিন ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
Guitarist’s Community of Dhaka ইফতার মাহফিল এর মধ্যে দিয়ে পথ চলা

রাজধানীতে “Guitarist’s Community of Dhaka”-এর এই ইফতার মাহফিল কেবল একটি খাবারের আয়োজন নয়, বরং এটি এই কমিউনিটির নতুন করে জেগে ওঠার এবং একতাবদ্ধ হওয়ার একটি শক্তিশালী যাত্রা।

আজ শুক্রবার খিলগাঁও তালতলার একটি রেস্টুরেন্টে Guitarist’s Community of Dhaka”র ইফতার মাহফিল ও পরিচিতি সভায় দেশের কিংবদন্তি মিউজিশিয়ানদের উপস্থিতিতে এই ইফতার মাহফিল যেভাবে নতুন পথ দেখাচ্ছে যেমন ঐক্যের সেতুবন্ধনে জেনারেশন গ্যাপ মিটিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়রদের একই ছাদের নিচে নিয়ে আসা এই কমিউনিটির ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় মাইলফলক।

এবং পেশাদারিত্বের বিকাশে অভিজ্ঞদের সান্নিধ্যে নতুনরা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম ও শিষ্টাচার শিখতে পারছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের পেশাদার হতে সাহায্য করবে।

এ ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার নতুন উৎস হিসেবে খিলগাঁওয়ের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, ঢাকার গিটারিস্টরা কেবল বিচ্ছিন্ন শিল্পী নন, বরং তারা একটি শক্তিশালী পরিবার। যা এই ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে যে ভ্রাতৃত্বের বীজ বপন করা হলো, তা আগামীতে আরও বড় বড় মিউজিক্যাল ইভেন্ট এবং ওয়ার্কশপের পথ প্রশস্ত করবে বলে সকলে আশাবাদী।

খুব অল্প সময়ে এরমজানেই শুধুমাত্র গিটারিস্টদের একটি অনলাইন ও অফলাইন প্লাটফর্ম ”Guitarist’s Community of Dhaka” যা শুধু চারজন মিউজিশিয়ান এমিল, শাওন, প্রিন্স, দেবাশীষ তাদের ভালোবাসার গর্জনে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, চমৎকার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো।

আজ সকল গিটারিস্টদের সম্মিলিত ভালোবাসা, ঐক্য ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে Guitarist’s Community of Dhaka এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলো। একসাথে ৬০ জন গিটারিস্টের মিলনমেলা এই অনলাইন প্লার্মের জন্য গৌরবের এক অনন্য মুহূর্ত, যা বাংলাদেশে একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সেই সাথে বিখ্যাত সব মিউজিশিয়ানদের উপস্থিতিতে খিলগাঁও তালতলার এই ইফতার মাহফিলটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। লাবু রহমান, মনোয়ার হোসেন টুটুল, পার্থ মজুমদার, মাসুম ওয়াহিদুর রহমান এবং মাহমুদ হায়দার অপুর মতো কিংবদন্তিদের উপস্থিতি এই আয়োজনের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তরুণ গিটারিস্টদের জন্য এই আয়োজনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিলো যা অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানে ফিডব্যাক, দলছুট বা প্রমিথিউসের মতো ব্যান্ডের সাথে যুক্ত এই গুণী শিল্পীদের সরাসরি সান্নিধ্য পাওয়া যেকোনো তরুণ মিউজিশিয়ানের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

এবং দিকনির্দেশনায় ‘প্রথিতযশা’ এই মিউজিশিয়ানরা বা অভিভাবকরা যখন তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের গল্প ও অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন, তখন নতুন প্রজন্মের জন্য মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার পথ সহজ হয়।

সেই সাথে মিউজিক্যাল হেরিটেজ যখন বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিকের সোনালী সময়ের কারিগরদের সাথে বর্তমান প্রজন্মের এই সেতুবন্ধন মিউজিক কমিউনিটির ভবিষ্যৎকে আরও মজবুত করবে।

লাবু রহমান (ফিডব্যাক), মনোয়ার হোসেন টুটুল, পার্থ মজুমদার, মাসুম ওয়াহিদুর রহমান (দলছুট) বা মাহমুদ হায়দার অপু (প্রমিথিউস)-দের মতো লিজেন্ডরা যখন একই টেবিলে বসে ইফতার করেন এবং তরুণদের সাথে গল্প করেন, তখন সেটি আর কেবল একটি ইফতার মাহফিল থাকে না—এটি একটি সাংস্কৃতিক উত্তররাধিকার (Musical Heritage) হস্তান্তরের মঞ্চ হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রীতত অতিথিবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত খ্যাতিসম্পন্ন বর্তমান মিউজিশিয়ানদের শ্রদ্ধেয় অভিভাবক – লাবু রহমান (ফিডব্যাক), মনোয়ার হোসেন টুটুল, পার্থ মজুমদার, মাসুম ওয়াহিদুর রহমান (দলছুট) মাহমুদ হায়দার অপু (প্রমিথিউস) রাসেল খান সহ দেশের ‘প্রথিতযশা’ মিউজিশিয়ানগন।

আয়োজকদের মধ্য থেকে এমিল বলেন, ইফতার মাহফিল শতভাগ সফল করার জন্য Guitarist’s Community of Dhaka এর আগত সকল সম্মানিত সদস্যবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন।

তিনি বলেন, তাদের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ এবং আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই আজকের এই নান্দনিক আয়োজন এতটা সুন্দর ও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান আগত সম্মানিত অতিথি ও প্রিয় সদস্য শ্রদ্ধেয় লাবু রহমান ভাই, শ্রদ্ধেয় মনোয়ার হোসেন টুটুল ভাই, শ্রদ্ধেয় পার্থ মজুমদার দাদা, এবং প্রিয় মাসুম ভাইসহ উপস্থিত সকল গুণীজনকে। তাদের উপস্থিতি আজকের এই আয়োজনকে আরও সম্মানিত ও সমৃদ্ধ করেছে।

অসংখ্য ধন্যবাদ জানান সেই সকল প্রিয় ভাইদের, যাদের অকাতর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং নিরলস প্রচেষ্টা ছাড়া এই আয়োজন কখনোই এত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না— স্নেহভাজন শাওন, প্রিন্স, দেবাশীষ, এবং বন্ধুবর শিবলী ভাই। আপনাদের আন্তরিক শ্রম ও ভালোবাসার জন্য Guitarist’s Community of Dhaka চিরকৃতজ্ঞ।

একই সাথে কৃতজ্ঞতা জানান সেই সকল গিটারিস্ট ভাইদের, যারা ব্যস্ততার মাঝেও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসে আজকের এই মিলনমেলাকে সফল ও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন আর স্বল্পতার কারণে যাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে জানাতে পারিনি, তাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আশা করি ভবিষ্যতে আয়োজনগুলোতে আপনাদের সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ পাবো ইনশা আল্লাহ।

আবারও সকল প্রিয় ভাইদের প্রতি অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আমাদের এই ভ্রাতৃত্ব, সুর, তাল ও বন্ধনের যাত্রা যেন এভাবেই সামনের দিনগুলোতে আরও বড় হয়ে এগিয়ে যায়—এই কামনাই রইলো।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল সম্ভব হয়েছে, – এমিল, শাওন, প্রিন্স, দেবাশীষ, এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন- রাশেদ শিবলী।

 

Ads