বৈশাখে মাসে পৌষ মাঘের ঠান্ডা

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
বৈশাখে মাসে পৌষ মাঘের ঠান্ডা

গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে বৈরি আবহাওয়া। অবশ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলহানি ও জলাবদ্ধতায় নাকাল হলেও রাজশাহীর তানোরে বৃষ্টির দেখা নেই। কিন্তু বৈশাখ মাসে যেন পৌষ ও মাঘ মাসের ঠান্ডা শুরু হয়েছে। বুধবার সকালের দিকে হালকা গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়েছে। বৃষ্টি ও উত্তরের হিমেল বাতাসে ঠান্ডার প্রকোপ যেন বিরাজমান। সকালে ঠান্ডা বাতাসের কারনে শ্রমিকরা কাজে বের হতে চাচ্ছেনা। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কোমর বেধে ধান কাটা মাড়ায় ও বহন শুরু করেন শ্রমিকরা।

শ্রমিক সহিদুল জানান, গত সোমবার ও মঙ্গলবারে বিলের জমির ধান কেটে ভারে করে বহন করে বাড়ির আঙ্গিনায় রাখা হয়। বুধবার ভোর থেকে মাড়ায় করব। কিন্তু ভোরে ও সকালের হালকা গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারনে বের হওয়া যায়নি। প্রচন্ড বাতাসের সাথে শীত লাগা শুরু করে শরীরে। পরে সকাল আটটার দিক থেকে ধান মাড়ায় শুরু করা হয়।

অটোভ্যান চালক ওহাব, তৈয়বসহ অনেকে জানান, গত শনিবার রাত থেকে প্রচুর বাতাস শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। বাতাস ছিল ঠান্ডা। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু গত চার দিন ধরে সকালে বের হওয়া যাচ্ছে না। বাতাসের সাথে লাগছে ঠান্ডা। অসময়ে শরীরে ঠান্ডা লাগলে জর সর্দি কাশিসহ নানা রোগ দেখা দিবে। চার্জার অটো ভ্যানে এমনিতেই বাতাস বেশি লাগে। আর গত চার দিন ধরে ঠান্ডা বাতাস। সকাল সন্ধ্যা ভাড়া মারা যাবে না।

কৃষি শ্রমিক মোস্তফা জানান, আমরা পাঁচ থেকে ছয়জন মত শ্রমিক ধান কাটছি। গত কয়েক ধরে ধান কাটা কাজ চলছে। কিন্তু বুধবার সকালে বৃষ্টি হওয়ার কারনে ঠান্ডার প্রকোপ কিছুটা বেশি ছিল।

কৃষকরা জানান, সকালে ও সন্ধ্যা এবং রাতে ঠান্ডা কিছুটা বেশি মনে হলেও কাজ করার মত আবহাওয়া।শরীর ঘামছে না, পানির পিপাসা লাগছেনা। আবার বৃষ্টিও নেই। যেন মহান আল্লাহর নেয়ামত স্বরুপ আবহাওয়া। বিলে যে ধরনের পাকা ধান আছে। যত সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলে দুর্ভোগের শেষ থাকত না। অতচ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অবশ্য প্রায় তিন দিন একবেলা পর বুধবার দুপুর ২ টার দিকে সূর্যের দেখা মিলে। কিন্তু অল্প সময় দেকা গেছে।

আবহাওয়ার ওয়েব সাইডে দেখা যায়, বুধবার সকালের দিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুরের দিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যার দিকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রাত ২ টা, ৩ টার দিকে ২২ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেয়া আছে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এসময় শরীরে কোন ভাবেই ঠান্ডা লাগানো যাবে না। বিশেষ করে শিশুদের বাড়ির বাহিরে বের না করার্য় ভাল। চেষ্টা করতে হবে গরম খাবার খাওয়ানোর। কোন ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Ads