বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের স্থান পরিদর্শনে চীনা প্রতিনিধি দল

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের স্থান পরিদর্শনে চীনা প্রতিনিধি দল

সীমান্তবর্তী নীলফামারীতে স্বাস্থ্যসেবায় দ্ধার উন্মোচন করতে নির্মিত হতে যাচ্ছে ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিনিধি দলের দলনেতা ডং লি’র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কারিগরি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। শনিবার (৯ মে) বেলা সারে ১১টার দিকে নীলফামারী দারোয়ানী (টেক্সটাইল) সুতাকল এলাকায় হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত স্থানটির ভৌগোলিক সমীক্ষা ও পরিদর্শন করেন চীনের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্বাবধানে চীন সরকার প্রায় ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা প্রদান করেন। এটি নির্মাণের জন্য ২৫ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে যা কয়েকবার চীনা প্রতিনিধিরা আসেন। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ১০ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতাল কমপ্লেক্স ও ডরমেটরি নির্মাণ করা হবে।

প্রতিনিধি দলের দলনেতা ডং লি’র প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা সম্ভাব্য অবকাঠামো, মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেষ্ট), যোগাযোগ (আকাশ,সড়ক) যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফাতেমা-তুজ জোহরা সাংবাদিকদের বলেন, ১ হাজার শয্যা হাসপাতালটিতে আধুনিক চিকিৎসা সেবায় সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। চিকিৎসক (ডাক্তার), নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পৃথক ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন নির্মাণ। অপরদিকে, ডিরেক্টরস বাংলো, প্রশাসনিক ভবন, উন্নত ল্যাব সুবিধা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।

তিনি আরও জানান, এরমধ্যে ৫০০টি সাধারণ রোগীদের জন্য এবং বাকি ৫০০টি বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ থাকবে। সেখানে নেফ্রোলজি, হৃদ রোগ (কার্ডিওলজি), নিউরোলজি, অনকোলজি, (হাড়জোড়) অর্থোপেডিকস, শিশু বিভাগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, এই হাসপাতালটি শুধু নীলফামারী জন্য নয়, পুরো উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এই এলাকার রোগীদের রংপুর, ঢাকাসহ দেশের বড় বড় হাসপাতালে যেতে হতো। হাসপাতালটি চালু হলে সেই ভোগান্তি আর থাকবেনা।

এসময় প্রতিনিধি দলের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন, নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই হাসপাতালটি নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীসহ ভারত মুখী হতে হবে না। যা এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক চিত্র বদলে দেবে।
মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন

Ads