খুলনায় গরু ছাগলের হাট বসছে ২৭টি থাকছে মেডিকেল টিম ও সিসি টিভি দায়িত্ব পালন

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান খুলনা ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় গরু ছাগলের হাট বসছে ২৭টি থাকছে মেডিকেল টিম ও সিসি টিভি দায়িত্ব পালন

খুলনা বিভাগের দশ জেলায় এবার কোরবানির পশুর হাট বসছে ১৭০ মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবের আর দু’সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যে গবাদি পশু ব্যবসায়ীরা তাদের খামার থেকে এই হাটগুলোতে পশু আনতে শুরু করেছেন।

কোরবানির পশু বিক্রির সুবিধার্থে খুলনা বিভাগের দশ জেলায় এবার মোট ১৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাজারগুলো স্থাপন করছে, যা ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চালু থাকবে। ১৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত জোড়াগেট হাটসহ অন্তত ২৭টি খুলনায় স্থাপন করা হচ্ছে।

এছাড়া বাগেরহাটে ২৯টি, সাতক্ষীরায় ১৬টি, যশোরে ২০টি, ঝিনাইদহে ২২টি, মাগুরায় ১৫টি, নড়াইলে ১০টি, কুষ্টিয়ায় ১৭টি, চুয়াডাঙ্গায় ৮টি এবং মেহেরপুরে ৬টি হাট স্থাপন করা হচ্ছে।

খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ মোঃ গোলাম হায়দার বলেন, খুলনা বিভাগের দশ জেলার ৫৯টি উপজেলাসহ কেসিসি’র ভিতরেও গবাদি পশুর হাট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪২টি পশুচিকিৎসা দল পশুর হাটে দায়িত্ব পালন করবে।

এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় পুরোটাই স্থানীয় ভাবে পালিত পশু দিয়ে মেটানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান ডাঃ মোঃ গোলাম হায়দার ।

জোড়াগেট পশুর হাটের কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধায়নে সিসিটিভি নজরদারি স্থাপন, মেডিকেল টিম মোতায়েন এবং জাল মুদ্রা শনাক্তকরণে সেবা প্রদান করবে বলে জানান কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।

ডুমুরিয়া উপজেলার বালিয়াখালী গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, পশু খাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম বেশি হতে পারে।

ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের দুগ্ধ খামারের মালিক মিন্টু খান বলেন, আমি এ বছর ১৮টি গরু ও ২৬টি ছাগল পালন করেছি এবং ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা লাভের আশা করছি। পশুখাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর গরুর দাম সামান্য বেশি হতে পারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১০ দশমিক ৮০ লাখ শতাংশ। তবে, কৃষকরা ঈদকে সামনে রেখে চাহিদাকে ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ ছাড়িয়ে ১৪ দশমিক ৪৭ লাখেরও বেশি পশু পালন করেছেন।

এ বিভাগে পালিত পশুর বিবরণীতে ৫৩৯,৯৬১টি গরু, ৪০৮৯টি মহিষ, ৮৫১,৩৭০টি ছাগল, ৫১,১৭৩টি ভেড়া এবং ২১৬টি অন্যান্য প্রাণী রয়েছে।

গত বছর বিভাগ জুড়ে মোট ১৬৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা হয়েছিল এবং ১৫২টি পশুচিকিৎসা দল মোতায়েন করা হয়েছিল। দশ দশমিক ৪৬ লক্ষ চাহিদার বিপরীতে মোট ১৪ দশমিক ৩৪ লক্ষ কোরবানির পশু পালন করা হয়েছিল। প্রাণিসম্পদ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ঈদুল আযহার আগেই ১১ লক্ষেরও বেশি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছিল।

Ads