সৈয়দপুরে ভেজাল জৈব সারের রমরমা বানিজ্য

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে ভেজাল জৈব সারের রমরমা বানিজ্য

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর সহ উপজেলার শতাধিক দোকানে ভেজাল ও নিম্নমানের জৈব সারের রমরমা বানিজ্য চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই সাথে ইউরিয়া সহ অন্যান্য সার ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকের। ক’জন অসাধু ব্যবসায়ী নিজ গোডাউনে কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল জৈব সার উৎপাদন করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

স্হানীয় কৃষি অধিদপ্তরের লোকজনের সাথে ওইসব জৈব সার উৎপাদকের চুক্তি থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কঠোর পদক্ষেপ থাকলে সৈয়দপুরে আর উৎপাদন হবে না ভেজাল জৈব সার। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বেঁচে যাবেন শত শত কৃষক।

জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রনালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা বাংলাদেশ সচিবালয় এর এক আদেশে বলা হয়, নকল সার,কীটনাশক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সকল জেলা ও উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোন পদক্ষেপই নিচ্ছেন না। বরং উক্ত আদেশকে পূজিঁ করে ভেজাল জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাসোহারা নেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে যেসব কিটনাশক বিক্রি করা হচ্ছে, সেগুলোর প্যাকেটে নেই কোনে উৎপাদানের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ। রেজিষ্ট্রেশন নম্বরের জায়গা গুলো একদম ফাঁকা। এমন ধরনের ঔষধ যেমন দস্তা, ম্যাগনোসিয়াম, বোরাক্স, বোরন, জিপসাম, সালফার, সহ ম্যাটালিক্স, দানাদার কীটনাশক কার্বোফুরান, ডায়াজিনন সহ বিভিন্ন ধরনের কোম্পানীগুলোর কোন অস্তিত্ব নেই।

ফসলের মৌসুম এলে প্রতি বছর নামে-বেনামে চটকদার মোড়কে ওই সব ঔষধ সহজ সরল কৃষকদের কাছে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের লোকজন।

ওইসব ভেজাল ও চটকদার মোড়ক দেখে বোঝার উপায় নাই কোনটা আবার কোনটা নকল। এছাড়া ঔষধের প্যাকেটের গায়ে কোম্পানী পুর্নাঙ্গ ঠিকানাও লেখা নেই। আছে শুধু মেইড বাই ঢাকা, চীন বা ইন্ডিয়া। কিন্তু ঢাকা, চীন ইন্ডিয়ার কোম্পানী কোন বিবরণ নেই। প্যাকেটের গায়ে লেবেলে ব্যাচ নং, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর, উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ, এমনকি কোম্পানীর সুনির্দিষ্ট ঠিকানাও নেই প্যাকেটের গায়ে।

কৃষকদের অভিযোগে জানা গেছে, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় সৈয়দপুর সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব সার তৈরির পর বিক্রি করে সর্বশান্ত করছে সহজ সরল কৃষকদের। আর আংগুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন সার উৎপাদকরা। এর পরেও কৃষি বিভাগ দেখছেন না লাইসেন্স এবং দেখছেন না কোন উপায়ে জৈব সার উৎপাদন করছে। কৃষি কর্মকর্তার সামান্য কিছু অর্থের চুক্তি থাকায় শত শত কৃষক আজ ধ্বংসের দাড় প্রান্তে।

সৈয়দপুর শহরের কৃষিবিদ আখতার হোসেন বলেন, জৈব সার তৈরি করতে প্রয়োজন, গোবর, হাড়ের গুড়া, ছাই,ডিমের খোসা, চাপাতা, কচুরিপানা ও মুরগির লিটার। এরপর সেগুলি একবছর রেখে দিতে হবে। যখন দুর্গন্ধ থাকবে না, তখন প্যাকেট করে বাজারজাত করতে হবে। কিন্তু সৈয়দপুরের জৈব সার উৎপাদনকারীরা রং মিশ্রিত বালু, লাল মাটি,সামান্য ছাই ও কেমিক্যাল মিশ্রন করছেন। তারা জৈব সারের নামে কেমিক্যাল মিশ্রিত অজৈব সার তৈরি করে কৃষকদের সর্ব শন্ত করছেন।

সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কেমিক্যাল মিশ্রিত জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের চটকদার মোড়ক দেখে আকৃষ্ট হচ্ছেন কৃষকরা। আর ওই সার ব্যবহারের পর অনেক কৃষকের চাষাবাদ নষ্ট হয়েছে ও হচ্ছে। কৃষক বাঁচাতে এখনেই অসাধু ব্যবসায়ী ও ভুয়া কোম্পানীগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান অনেকেই।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিদু ভুষন রায় এর সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকের সাথে এবিষয়ে কোন কথাই বলবেন না বলে জানান।

Ads