সৈয়দপুরে তাপদাহ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে তাপদাহ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রবল তাপদাহ চলছে । গত ৩ দিন ধরে অসহনীয় গরমে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা শুরু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরের পর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দুই দিন তাপমাত্রা ছিল ৩৭/৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস । এ তথ্য মিলেছে সৈয়দপুর বিমানবিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস থেকে।

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, মৌসুমী বৃষ্টিপাত কমে আসায় গত ৩ দিন ধরে এ জনপদে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার দুপুরের পর সৈয়দপুরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে তাপদাহের কারণে শহরে লেকজনের চলাচল একেবারেই কমে গেছে । বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। যানবাহন চলাচলও অনেকটা কমেছে। শহরের শরবতের দোকানগুলোতে তৃষ্ণার্ত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তালের শাষ বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।

প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামলেও প্রচণ্ড গরমে কাহিল হয়ে পড়ছেন তারা। মাঠ-ঘাট ছেড়ে অনেককে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা যাচ্ছে। প্রচন্ড গরমের কারনে গলা শুকিয়ে যাওয়া রিকশা চালকেরা রিকশায় বসে পানি পান করছেন। কেউবা রোদে গরম হয়ে যাওয়া মাথা ভিজিয়ে নিচ্ছেন।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াশিমুল বারী জয় বলেন, তাপপ্রবাহের কারণে ঝুঁকিতে পড়বেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। এতে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে এবং ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে অসুস্থ রোগীরা হাসপাতালে আসছেন চিকিৎসার জন্য।

বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তারা বেশি করে পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। হাই প্রেসার রুগীদের সাবধানে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

Ads