বিশ্বনাথে ঘর জ্বালানো মামলা ধামাচাপা দিতে পুলিশের হয়রানি

শহীদ আহমদ খান, সিলেট প্রিতিনিধ ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বনাথে ঘর জ্বালানো মামলা ধামাচাপা দিতে পুলিশের হয়রানি

আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া মামলাটি ধামাচাপা দিতে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মরিয়া হয়ে উঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের বিশ্বনাথ থানার ৫ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তর সিংড়াওলী গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে ফয়জুল ইসলামের বাড়িতে। জানা যায়,ঘটনার শিকার ফয়জুল ইসলাম দীর্ঘ দিন থেকে আওয়ামী সমর্থিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকা ছাড়া এবং জীবিকা রক্ষার জন্য পেটের তাগিদে ঢাকা শহরে গিয়ে সে ছোট একটা চাকরী করছে।

এদিকে গ্রামে তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রের কারণে ভুক্তভোগী ফয়জুল ইসলাম তার স্ত্রী সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে না রেখে সিলেট শহরে তার শ্বশুর বাড়িতে রাখেন।তবে বছরে ২বার মা কে দেখতে গ্রামের বাড়িতে যান।তারই সূত্রে গত ০৬/১১/২০২৫ ইং তারিখে মা কে দেখার জন্য ফয়জুল ইসলাম নিজ বাড়িতে গেলে রাত অনুমান ২.৩০ ঘটিকার দিকে প্রস্রাবের জন্য ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পান বাহিরে চতুর্দিকে আলো।

বসত ঘরের পাশে মূল্যবান কাঠসহ ইত্যাদি রাখা একটি ঘরে আগুন জ্বলছে এবং কাউছার, সামছুদ্দিন সহ কয়েক ব্যক্তি দৌড়ে পালাচ্ছে। সাথে সাথে মা ও আশেপাশের বাড়ির অনেককে ঘুম থেকে জাগিয়ে প্রায় ১ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনলে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধিত হয় বলে ভুক্তভোগী ফয়জুল ইসলাম জানান।

এদিকে বাদী আসামীদের নাম বলায় পরের দিন বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে জানা গেছে।তবে ঘটনার পরের দিন ঘরে আগুন লাগার বিষয়টি লিখিতভাবে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়।কিন্তু অভিযোগের ৪ দিন পার হলেও পুলিশ সরেজমিনে না যাওয়ায় গত ১২/১১/২০২৫ ইং তারিখে ঘটনার শিকার ফয়জুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১০/২৫। কিন্তু আদালত বিশ্বনাথ থানা পুলিশকে হুকুম দেয় যে, সরেজমিনে পুলিশ গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে তদন্তরিপোর্ট দেয়ার জন্য।তবে ঘটনার প্রায় ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্বনাথ থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে আদালতে তদন্তরিপোর্ট জমা দেয়নি।

এদিকে তদন্তরিপোর্ট না দেয়ার কারণে আদালত আসামীদের তলব করতে পারছে না বলে জানা গেছে। এদিকে বাদী ফয়জুল ইসলাম জানায় এ ঘটনার পূর্বে ১৩/১১/২০১৪ এবং ১১/৫/২০১৭ ইং তারিখে তার বসতঘর ভাংচুর করে গরু,ছাগল,নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে ঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় ঐ আসামীরা।ঘটনার শিকার ফয়জুল ইসলাম জামায়াত- শিবিরের সক্রিয় কর্মী হওয়ায় তখন থানা পুলিশ মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ন্যায় বিচার পায়নি।

তখন আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নানা ভাবে হুমকি দিয়ে গ্রাম ছাড়া করে।তারই আলোকে পুনরায় গত নভেম্বরে ঘর জ্বালিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলে বাদী জানায়।এমতাবস্থায় গত ১২/১১/২০২৫ ইং আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এদিকে উক্ত মামলার সাক্ষী আরিফুল নেছার সাথে যোগাযোগ করলে সাক্ষী জানায় ২০১৪ সালে ও ২০১৭ সালে যে ঘটনা ঘটেছিল তখন বাড়ির ও পাশের বাড়ির অনেকেই জড়িত ছিল।

তবে গত ৬/১১/২০২৫ ইং তারিখের ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা আমি সঠিক বলতে পারবোনা।তবে চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে আমি দেখি আগুন জ্বলছে এবং ফয়জুল সহ কয়েক জন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১ম সাক্ষীর বক্তব্য নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ২য় সাক্ষীর সাথে পুলিশের আজও যোগাযোগ হয়নি।পুলিশ বাদীকে জানায়,সাক্ষীর কাছে আমি যেতে পারবো না। সাক্ষীকে থানায় নিয়ে আসতে হবে অথবা আমাদের স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে হবে।

এমতাবস্থায় বাদী ফয়জুল ইসলাম সম্প্রতি বিশ্বনাথ থানা পুলিশের কাছে গেলে তদন্তকারী বাদীকে জানায়, ২য় সাক্ষীকে থানায় নিয়ে আসো অথবা আমাদের স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে যাও। তবে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। এমন সময় আমাদের প্রতিবেদকের সাথে বাদী ফোন করে বিষয়টি জানায় এবং তদন্তকারীর সাথে আলাপ করতে বললে তখন তদন্তকারী ফোনে আমাকে বলে বাদীকে আমাদের কাগজে স্বাক্ষর দিতে হবে অথবা ২য় সাক্ষীকে থানায় নিয়ে আসতে হবে। তখন তদন্তকারীকে বলেন আপনি গোপনে তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেন ।

বাদীকে স্বাক্ষর দিতে হবেনা। এ দিকে মামলার অপর সাক্ষী ইন্তাজ আলীর সাথে আমাদের প্রতিবেদকের সাথে ফোনে কথা বললে জানান তদন্তকারীর সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি। তবে ০৬/১১/২০২৫ ইং তারিখের আগুনের ঘটনা কে ঘটিয়েছে তা সঠিক বলতে পারবো না।এটা তাদের পারিবারিক বিষয়। ফয়জুলের বাড়িতে এ নিয়ে ৩বার ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে মামলার বাদী জানায়,তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বাক্ষর দেয়ার জন্য নানা চাপপ্রয়োগ করছে এবং মাদক মামলায় জড়িয়ে জেলে ঢুকে দেবে বলে হুমকি দেয়।

বাদীর ধারণা পুলিশ আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।পুলিশ তদন্তরিপোর্ট এর জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে বলে বাদী জানায়।পুলিশের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় মামলাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য ও প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে তদন্তকারী পুলিশ নানা ভাবে পায়তারা চালিয়ে আসছে।ফলে পুলিশ ইচ্ছে করে তদন্তরিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বিলম্ব করছে।এমতাবস্থায় আসামীরা মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে বাদী জানায়। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Ads