পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সর্বোচ্চ নজরদারি

আশরাফুজ্জামান খোকন, বোদা প্রতিনিধি (পঞ্চগড়)ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সর্বোচ্চ নজরদারি

বোদা উপজেলা সহ জেলার ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ নজরদারিতে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে নীলফামারী-৫৬ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বিজিবি সদস্যরা।

একই সাথে পঞ্চগড় জেলার তিন দিকে (উত্তর, পশ্চিম ও পূর্বে) মোট ২৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলা- দেবীগঞ্জ, বোদা, পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী মিলে এই সীমান্ত এলাকা গঠিত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ক্যাম্প বা বিওপিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

গত বুধবার (৩ জুন) রাতভর থেকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করা হয়। এ সময় স্থানীয় সীমান্তবাসি জনগণ সাধারণকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ক্যাম্প বা বিওপিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয় স্থানীয়দের।

বিজিবি জানায়, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সব কোম্পানি ও বিওপির এলাকায় পুশইন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নেতৃত্বে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, দফাদার-চৌকিদার, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহল পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ টহলও পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে সীমান্ত এলাকায় নিবিড় নজরদারি নিশ্চিত করতে হ্যান্ডমাইক, বাঁশি, টর্চলাইট, সার্চলাইট এবং নাইট ভিশন গগলসসহ বিভিন্ন আধুনিক পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এসব কর্মসূচিতে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। একই সাথে সকল সীমান্ত অপরাধ বন্ধে বিশেষ ভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ সহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

Ads