আষাঢ়ের দোরগোড়ায় তীব্র আর্দ্রতায় পুড়ছে কুষ্টিয়া গড়াইয়ে নাব্যতা সংকট

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
আষাঢ়ের দোরগোড়ায় তীব্র আর্দ্রতায় পুড়ছে কুষ্টিয়া গড়াইয়ে নাব্যতা সংকট

জৈষ্ঠ্যের শেষ দিনে এসে বুধবার কুষ্টিয়াসহ আশপাশের অঞ্চলে মেঘলা আকাশ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। তীব্র আর্দ্রতার (৯৭%) কারণে বাতাসে ভ্যাপসা গরম কাটছে না। গত কয়েক দিন বিকেলে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে । মেঘের আনাগোনার মধ্যেও কুষ্টিয়ার প্রাণ গড়াই নদীসহ কালিগঙ্গা , কুমার ও হিসনা নদী এখন এক মরা খাল। শুষ্ক মৌসুম পেরিয়ে বর্ষার দোরগোড়ায় এসেও নদী জুড়ে জেগে আছে মাইলের পর মাইল ধূ ধূ প্রান্তর,। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রজেক্টের ওপর।

সরেজমিনে কুমারখালী, খোকসা ও ভেড়ামারার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নদীপাড়ের শত শত হেক্টর ফসলি জমি পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে আছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় শ্যালো মেশিনেও মিলছে না পর্যাপ্ত পানি। কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমের পর এখন আমন চাষের প্রস্তুতির মুখে পানির এই তীব্র সংকট তাদের ফসল উৎপাদনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে।

তবে এই চরম সংকটের মাঝেই জিকে প্রজেক্টকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন কুষ্টিয়াবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জিকে প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব ও পদ্মার উজান থেকে পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ১,২০০ কোটি টাকার একটি বিশাল আধুনিকীকরণ ও পুনর্নির্মাণ (Redesign) প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই মেগা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্লুপ্রিন্ট অনুযায়ী, নদীর পানির স্তর ৪.৫ মিটারের নিচে নেমে গেলেও পাম্পগুলো যেন পানি তুলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহের গ্রামীণ কৃষি ও সেচ সংকট চিরতরে কেটে যাবে।

আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির স্থানীয় প্রতিনিধিরা বলছেন, কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি নদী সচল রাখতে গড়াইয়ের উৎসমুখ নিয়মিত খনন করা এবং উজানের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের একমাত্র পথ।

 

Ads