জিপিও’র গোপন কক্ষে নিয়মবর্হিভূত সিডিএস ও লেটার রাইডার ওলিউল্লাহর কর্মযজ্ঞ

নবী নেওয়াজ মিঠু, নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
জিপিও’র গোপন কক্ষে নিয়মবর্হিভূত সিডিএস ও লেটার রাইডার ওলিউল্লাহর কর্মযজ্ঞ

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের জিপিও’র কর্তৃপক্ষের নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গালী দেখিয়ে লেটার রাইডার (তল্লাশীকারক) সিলবিহীন প্রশাসনের কর্মকর্তার নির্দেশে অবৈধ মালপত্র গোপন কক্ষে সিডিএস (ঘোষণাপত্র) করে দেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে প্যাকেট বুকিং করছেন প্রশাসন শাখার ওলিউল্লাহ।

অভিযোগ পাওয়া যায় যে, প্রশাসন শাখার কর্মচারী ওলিউল্লাহ ওরফে ওলি তার নিজ কক্ষে লেটার রাইডার সিলবিহীন অবৈধ মালপত্র সিডিএস করেন। তার নির্দেশে কখনো কখনো অবৈধ মালপত্র দেশের বাইরে মালপত্র বুকিং করেন মোঃ আছান উল্লাহ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৮ই জুন ৩টি কমার্শিয়াল প্যাকেট জিপিও’র কাউন্টারে বুকিং দেন ওলিউল্লাহ। প্যাকেট ৩টিতে কোনো লেটার রাইডার সিল ছিলনা। এ অবস্থায় তিনি ৩টি রাষ্ট্রে সিডিএস করে বুকিং করেন। উল্লেখিত প্যাকেট গুলো হচ্ছে: (১) সাজ্জাদ হোসেন, যার আইমি নাম্বার-ইই০০৫১৮৮৫১৫বিডি, (২) তাহমিনা ইসলাম, যার আইমি নাম্বার-ইই০০৫১৮৭০১৫বিডি, (৩) ইলোরা এহসান, যার আইমি নাম্বার-ইই০০৫১৮৯১৩৫বিডি।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গত ১ বছর ধরে দেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মালপত্র পাঠিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন ওলিউল্লাহ ওলি। তিনি শুধু টাকা কামিয়ে শান্ত হননি, একে একে ৮টি লেটার রাইডার লাইসেন্স তার ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা সিনিয়র পোস্ট মাষ্টার মনিরুজ্জামানকে কমার্শিয়াল মাল বুকিং করা ও ভূলবাল বুঝিয়ে লাইসেন্সগুলো বাতিল করে সম্রাজ্যের মহারাজা হয়ে অর্থ কামাচ্ছে।

ভুক্তভূগী লেটার রাইডাররা বলেন, বাণিজ্যিক মাল দেশ থেকে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগে আমাদের পেটে লাথি মেরে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সেই অপরাধগুলো এখন তারাই করছে। শধু তাই নয় সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ মাদক, শুটকি, ঔষধপত্র যা জিপিও’র নিয়মনীতি বহির্ভূত অবৈধ মাল পাঠাচ্ছেন ওলিউল্লাহ ওরফে ওলি। তাঁর প্যাকেটগুলো কাউন্টারে খুব কম মূল্যে সর্বনিম্ন রেট ধরে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে পার্সেল করছেন। তার কথামত প্যাকেট না ছাড়লে কর্মচারীর বদলিসহ নানা হয়রানি করেন।

লেটার রাইডার আরও জানায়, সিনিয়র পোস্ট মাষ্টার মনিরুজ্জামান’কে দিয়ে আরও ৬টি লেটার রাইডার লাইসেন্স পাইয়ে দিবে বলে প্রত্যেক জনের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। লাইসেন্স বিহীন যারা ওলির নির্দেশে প্যাকেট করেন। তাদের লেটার রাইডার লাইসেন্স করে দিবে বলে তানভির, আবিদ ও আরমানসহ বেশ কয়েকজন থেকে ১ লক্ষ টাকা করে নিয়েছেন বলে জানায়।

গত বছর জুলাই মাসে তানভীর ও আমিনের মধ্যে পার্সেল প্যাকেট বুকিং নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল মারামারি সংগঠিত হয়। এতে তানভির আমিন ও তার ভাই মুসা’র বিরুদ্ধে পল্টন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জিপিও’র কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনকে অশোভন আচরণের দায়ে তাদের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করে। ওলিউল্লাহ ওরফে ওলি তাদের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিতাদেশ বাতিল করে পুনরায় কাজে বহাল করবে বলে আমিন ও তানভীরের কাছ থেকে ৫০ হাজার করে ১লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযোগের ভিত্তিতে ওলিউল্লাহ ওরফে ওলি জিনিউজের প্রতিবেদককে বলেন, সিডিস ও লেটার রাইডার সিলবিহীন প্যাকেট বুকিং করার অনুমতি কর্তৃপক্ষ তাকে মৌখিকভাবে দিয়েছেন। ঈদ মৌসুমে জনসেবায় প্রচন্ড চাপ থাকায় সিনিয়র পোস্ট মাষ্টার মনিরুজ্জামান তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেদকে বলেন শুধু আমি না জিপিও’র যেকোনো কর্মচারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ দায়িত্ব পালন করতে পারে বলে চ্যালেঞ্জ করেন।

তিনি আরও জানায়, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ আমাকে হেনোস্তা করার জন্য উদ্দেশ্যমূলক আপনাদের জানানো হয়েছে। লাইসেন্স পাইয়ে দিবো বলে কারো কাছ থেকে কোনো লেনদেন করিনি এবং আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা।

ডাক বিভাগের সিনিয়র পোস্ট মাষ্টার মনিরুজ্জামান জিনিউজের প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, জিপিও’র কোনো কর্মচারী প্যাকেট বুকিং এর জন্য সিডিএস ও লেটার রাইডার মাল পাঠানোর জন্য কাউন্টারে বুকিং ও প্যাকেটিং করতে পারে না। ওলিউল্লাহ’র বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

 

 

 

 

 

Ads