কুষ্টিয়ায় কলেজ শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, ময়নাতদন্তের জন্য বেতার বার্তা

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় কলেজ শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, ময়নাতদন্তের জন্য বেতার বার্তা

কুষ্টিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোঃ মোসলেম উদ্দিনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৯ জুন) তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিতে ঢাকা শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিশেষ বেতার বার্তা (ওয়ারলেস মেসেজ) পাঠিয়েছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ওএসডি হিসেবে সংযুক্ত থাকা অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত বুধবার (১৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া ডাক্তার পাড়ার নিজ বাড়ির একটি বিরোধপূর্ণ আমবাগানে আম পাড়তে যান তিনি। এ সময় তাঁর চাচাতো ভাইসহ প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলায় তাঁর বাম পা, ডান হাত ও গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়।

অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুর পর কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর ঢাকা শেরেবাংলা নগর থানার ওসি বরাবর একটি জরুরি বেতার বার্তা (বার্তা নং- ৭৬/২৬, জিডি নং- ১৬২২, তারিখ: ১৯/০৬/২০২৬ খ্রীঃ) প্রেরণ করেছেন।

বেতার বার্তায় উল্লেখ করা হয়, নিহত শিক্ষকের দেহে ও পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি কুষ্টিয়া জেলাধীন এবং এ সংক্রান্ত কোনো অপমৃত্যু বা নিয়মিত মামলা তাৎক্ষণিকভাবে কুষ্টিয়ায় রুজু হয়নি, তাই আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি। এই লক্ষ্যে মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শেরেবাংলা নগর থানাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিহতের বড় ভাইয়ের মেয়ে বুলু খাতুন জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগেও অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। একই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এবারও হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রতিপক্ষ ও প্রভাবশালী একটি মহল জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান মনজুরার রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ কুষ্টিয়ার উদ্দেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রথমে গ্রামের বাড়িতে মরদেহ নেওয়া হবে না। রাতে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মসজিদ প্রাঙ্গণে মরদেহ রাখা হতে পারে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই মামলা চলছে। হামলার খবর পেয়ে পুলিশই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা নগর থানাকে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

Ads