কুষ্টিয়ায় খাল পুনঃখননে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ!

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় খাল পুনঃখননে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ!

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জানিপুর ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে নেওয়া সরকারের এই প্রকল্পে খোকসা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং স্থানীয় কয়েকজন নেতার যোগসাজশে অর্থ লোপাট করা হয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পে শ্রমিকের তালিকায় ৭১৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও মাঠে নিয়মিত কাজ করেছেন মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ জন। তালিকায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রবাসী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ৪০ শতাংশ কাজ খননযন্ত্র (ভেকু) এবং ৬০ শতাংশ কাজ শ্রমিক দিয়ে করার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ অংশই ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করা হয়েছে। অনেক স্থানে আবার খননের কাজই হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ৭১৪ শ্রমিকের ৪০ দিন কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে সব মিলিয়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক কাজ করেছেন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, শ্রমিকদের মজুরি সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হলেও স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজ্জাক মেম্বার শ্রমিকদের কাছ থেকে খালি চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন।

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের পিআইসি কমিটির সভাপতি ও শিমুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। প্রায় দুই কিলোমিটার কাজ হওয়ার পর বিভিন্ন নেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা আমাকে ডেকে নিয়ে যান। আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি, বাকি বিষয় সম্পর্কে কিছু জানি না। রাজ্জাক মেম্বার সব জানেন।

খোকসা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইজিপিপির আওতায় ৩ কোটি ৯ লক্ষ ২ হাজার ৪৭০ টাকার জানিপুর ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১৪ এপ্রিল ২০২৬ এবং শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ৩০ জুন ২০২৬। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি।

এদিকে শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাইলে তা দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, অধিকাংশ কাজই খননযন্ত্র দিয়ে করা হয়েছে, আর অল্প কয়েকজন শ্রমিককে দিয়ে শুধু খালের পাড় বাঁধার কাজ করানো হয়েছে।

শিমুলিয়া ইউপি মেম্বার রাজ্জাক বলেন, এই এলাকার একমাত্র নেতা আমি ডিসি মহোদয় আমাকে নিজে ডেকে পিআইসি কমিটির সভাপতি করেছেন এবং সব কাজ দেখাশুনা করতে বলেছেন। কাজ সব ঠিক হচ্ছে আপনারা যাবার সময় পিআইও অফিসের আলিম ভাইয়ের সাথে কথা বলে যেয়েন।

এই বিষয়ে খোকসা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. দোস্তদার হোসেন বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী আমাদের কাজ করছি। এখানে কোন অনিয়ম হয় নাই।

স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকল্পের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Ads