কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে হাসপাতালে সাপুড়ে ইমরান

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে হাসপাতালে সাপুড়ে ইমরান

মানুষকে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসা দিলেও নিজের জীবন বাঁচাতে ছুটলেন হাসপাতালে। কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ইমরান নামে এক সাপুড়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় সাপ উদ্ধার, সাপ ধরা এবং সাপে কাটা রোগীর কবিরাজি চিকিৎসা করার কারণে পরিচিত এই সাপুড়ে নিজেই এবার বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাতের দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর বাগগাড়িপাড়া এলাকায় একটি সাপ উদ্ধার করতে যান ইমরান। এ সময় সাপটি তাকে কামড় দিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সাপ ধরে এবং সাপে কাটা রোগীর কবিরাজি চিকিৎসা করে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাপ ধরার নানা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তিনি পরিচিতি পান। তবে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনিও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়েছেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে সময়মতো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবস্থা। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হলে অধিকাংশ রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব।

এদিকে, গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেক মানুষ সাপে কাটার পর হাসপাতালের পরিবর্তে কবিরাজ বা সাপুড়ের কাছে যান। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন এলাকায় কিছু ব্যক্তি শতভাগ সুস্থ করার দাবি করে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার প্রচার চালিয়ে থাকেন এবং রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

ইমরান সাপুড়ের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। সচেতন মহলের মতে, সাপে কামড়ের পর ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জীবন রক্ষার একমাত্র নিরাপদ উপায়।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের আশা, এই ঘটনা গ্রামাঞ্চলের মানুষকে কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা গ্রহণে আরও সচেতন করবে।

Ads