তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ঘরে তোলা নিয়ে সংঘর্ষে শাশুড়ির মৃত্যু

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ঘরে তোলা নিয়ে সংঘর্ষে শাশুড়ির মৃত্যু

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে পুনরায় ঘরে তোলা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বজনদের হামলায় গুরুতর জখম রাবেয়া খাতুন (৩৯) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার( ৮ আগস্ট )দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত রাবেয়া খাতুন কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রাম এলাকার ভ্যানচালক মকছেদ আলীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে রাবেয়া খাতুনের বড় ছেলে সুমনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বৃষ্টির বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) হয়। গত ৪ আগস্ট ধর্মীয় রীতিনীতি না মেনে ওই পুত্রবধূকে পুনরায় বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন রাবেয়া ও তাঁর পরিবার। এতে ক্ষুব্ধ হন রাবেয়ার আপন ভাতিজা শরিফ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম ও আসাদুল হোসেনসহ তাঁদের পক্ষের লোকজন।

নিহতের পরিবার জানায়, ওই দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাবেয়ার বাড়িতে চড়াও হন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে রাবেয়া মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। প্রথমে তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে নিহতের স্বজনেরা জানান, রাবেয়ার মাথায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছিল।

নিহতের স্বামী মকছেদ আলী বলেন, ভাতিজাদের না জানিয়ে ছেলের বউকে বাড়িতে আনার রাগে তারা হঠাৎ হামলা চালায়। আমার স্ত্রী মারা গেছে, আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রাকিবুলের স্ত্রী আর্জিনা খাতুন দাবি করেন, তালাক দেওয়া বউ ঘরে তোলা নিয়ে শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে পাল্টাপাল্টি মারামারির ঘটনা ঘটে, এতে তাঁদের স্বামীরাও আহত হয়েছেন। হত্যার কোনো উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়নি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আগেই থানায় একটি মামলা হয়েছে। হামলায় আহত নারী আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছ।

Ads