এসএসসিতে দিনাজপুর বোর্ডের ফল বিপর্যয়, পাসের হার নেমেছে ৫৮ শতাংশে

তারিকুল ইসলাম শুভ, রংপুর প্রতিনিধি ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
এসএসসিতে দিনাজপুর বোর্ডের ফল বিপর্যয়, পাসের হার নেমেছে ৫৮ শতাংশে

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এই বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত বছর যেখানে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ, সেখানে এবার তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশে। পাসের হারের পাশাপাশি কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি-এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী,রংপুর বিভাগের আট জেলার মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থী এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭ হাজার ১৫২ জন ছাত্রী এবং ৬ হাজার ৪৮৭ জন ছাত্র।

এবার ২৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। ১৮টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ফলে একদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা থাকলেও অন্যদিকে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি ফলাফলের সামগ্রিক মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

গত বছরের তুলনায় এবার ফলাফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতায় হতাশ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বিশেষ করে পাসের হার প্রায় ৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফল নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী দিদারুল আলম জিপিএ-৫ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “ভালো ফলাফল করতে পেরে আমি আনন্দিত। এই ফলাফলের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করব।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান, বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের আট জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে গঠিত দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে চলতি বছর পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, যেসব বিদ্যালয়ে পাসের হার কম কিংবা কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সার্বিকভাবে চলতি বছরের ফলাফলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশে নেমে আসায় এটি গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাসের হার কমার পাশাপাশি ১৮টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়া এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় পরিবর্তন-সব মিলিয়ে বোর্ডের এসএসসি ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন বলেন,“এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফলে পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলের সার্বিক বিষয়গুলো বোর্ডের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হবে।”

 

 

 

 

Ads